কোরবানির আগে আমদানির লবণ বাজারে যাচ্ছে না

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৭, ০১:২৪

দেশে কোরবানির সময় লবণের বাড়তি চাহিদার কথা চিন্তা করে সরকার লবণ আমদানির সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু লবণের বাজার নিয়ে ব্যবসায়ীরা কারসাজিতে মেতে উঠেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, কোরবানির আগে দেশে এসে পৌঁঁছছে না আমদানি করা লবণ। এদিকে, বাজারে লবণের দাম ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ীরা। কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট ও পটিয়ার ইন্দ্রপোল এলাকায় কতিপয় মিল মালিক সিন্ডিকেট করে বাজারে লবণ নিয়ে কারসাজি করছে।  ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমদানি করা লবণ দেশে পৌঁছেনি।   এর মধ্যে লবণ এনে পরিশোধন করে বিক্রি করাও সম্ভব হবে না। এতে শঙ্কায় রয়েছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, ভারত থেকে এসব লবণ আমদানি করা হচ্ছে। লবণবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছার পর সেখান থেকে লাইটারেজ জাহাজে করে খালাস করা হয়। খালাসের পর মিলে নিয়ে পরিশোধন করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কোরবানির আগে আমদানিকৃত লবণ বাজারজাত করা সম্ভব হবে না বলে মিল মালিকরা জানান।  জানা যায়, দেশের চাহিদার ঘাটতি পূরণে সরকার ৫ লাখ মেট্রিক টন লবণ আমদানি অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। মিল মালিকদের মধ্যে যাদের অপরিশোধিত লবণ পরিশোধন করার প্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে তাদেরকে আমদানি করার লাইসেন্স দেওয়া হয়।

জানা যায়, চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন জায়গায় ৬৫টি ও পটিয়া ইন্দ্রপোল এলাকায় ৪৩টি লবণ মিল রয়েছে। এসব মিলে লবণ আয়োডিনযুক্ত ও পরিশোধন করার সুবিধা রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই গ্রুপ করে লবণ আমদানির এলসি করেছে।

এদিকে বাজারে প্রতিদিন লবণের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি বস্তা (৭৪ কেজি) লবণ ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ ২/১ মাস আগেও এসব লবণ বস্তাপ্রতি ৭০০/৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কোরবানিতে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে লবণের বাড়তি চাহিদা থাকে। এটাকে টার্গেট করে লবণের মূল্য নিয়ে কারসাজি করছে মিল মালিকরা।

চামড়া ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ব্যবসায়ীরা লবণ আমদানি ইচ্ছেকৃতভাবে বিলম্ব করেছে। সরকার যখন উদ্যোগ নিয়েছিল তখন এলসি করা হলে অনেক আগেই দেশে লবণ পৌঁছে যেত। কিন্তু আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা কোরবানিতে বাজারে লবণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির জন্য আমদানি বিলম্ব করেছে। এখন মিল মালিকদের কাছে মজুদকৃত লবণ বাজারে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু