আশা সমিতির কর্মকর্তার নির্দেশে ঋণগ্রহিতাকে মারধর

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৭, ২০:০৯
ঋণ পরিশোধ না করার অভিযোগ তুলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশা’র কর্মকর্তা এক দরিদ্র দম্পতিকে তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারপিট করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সমিতির সদস্য মারুফা খাতুন ও তার স্বামী খলিলুর রহমানকে গ্রামের দুই সন্ত্রাসী ওই কর্মকর্তার সামনে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করে চলে গেছেন। হুমকি দিয়েছে, ঈদের আগে টাকা না দিলে বাড়ির সম্পদ নিয়ে তা পরিশোধ করা হবে।
 
সোমবার এ ঘটনা ঘটে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে। আহত মারুফা ও খলিল সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছেন।
 
মারুফা খাতুন বলেন, গত ১২ বছর যাবত তিনি ও তার স্বামী আশা সমিতির সদস্য হিসাবে টাকা সঞ্চয় করে আসছেন। কিছুদিন আগে তারা ৩০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সপ্তাহে ৮০০ টাকা তাদের বইয়ের বিপরীতে জমা দিয়ে আসছেন। এরই মধ্যে ৪৪ সপ্তাহ কিস্তির ৩০ সপ্তাহ পারও করেছেন তারা।
 
মারুফা আরো জানান, সমিতির কাছে তিনি সর্বোচ্চ আট হাজার টাকা ঋণ রয়েছেন। অপরদিকে বাড়তি সঞ্চয়ের পাঁচ হাজার টাকা তারা সমিতির কাছে পাবেন। এমন অবস্থায় লোন অফিসার রফিকুল ইসলাম তাদের জমাদান বই নিয়ে গেছেন। এর বিপরীতে নতুন একটি বই হাজির করে তিনি ঋণের টাকা দাবি করছেন।  
 
মারুফা ও তার স্বামী খলিল জানান, সোমবার সকালে লোন অফিসার রফিকুল ইসলাম গ্রামের দুই সন্ত্রাসী মনিরুল ইসলাম ও আনিসুর রহমানকে সাথে নিয়ে তার বাড়িতে আসেন। একপর্যায়ে জমা টাকা নিয়ে বচসা হতেই রফিকুলের নির্দেশে তারা মারুফা ও তার স্বামী খলিলকে মারধর করে। এ সময় ঈদের আগে টাকা পরিশোধ না করলে বাড়ির গরু ধরে নিয়ে যাবার হুমকি দেয় তারা।
  
যোগাযোগ করা হলে আশা সমিতির লোন অফিসার রফিকুল ইসলাম তার সামনে ওই দম্পতি মার খেয়েছেন স্বীকার করে বলেন, এটা তাদের নিজেদের ব্যাপার। 
 
তাদের সঞ্চয় বই আটকে রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কাছে টাকা পাওনা রয়েছে। এই টাকা আদায় করতে তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম।
 
ইত্তেফাক/এএম।