ভালুকার বাসাটি ছিল বোমা তৈরির কারখানা

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৭, ০১:০২

ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ির কাশর গ্রামের যে বাসায় গত রবিবার সন্ধ্যায় বিকট শব্দে বোমা বিস্ফোরণে একজন নিহত হয়, সেটি মূলত জঙ্গিদের বোমা তৈরির কারখানা ছিল বলে জানা গেছে। গতকাল সোমবার সকালে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ওই বাসায় অভিযান চালায়। বাসা থেকে ৫টি শক্তিশালী বোমা, আত্মঘাতী হামলার পোশাক, কয়েক হাজার ফিল্টার, পেট্রোল, হাজার হাজার লোহার টুকরা, বিপুল পরিমাণ তার, বিস্ফোরকসহ বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়। এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় বোমা বিস্ফোরণের পর পরই বাসাটি ঘিরে রাখে পুলিশ।

এদিকে, নিহত ব্যক্তির নাম আলম প্রামাণিক ওরফে আব্দুল্লাহ ড্রাইভার ওরফে আরিফ (৪০) বলে জানা গেছে। তিনি নাটোর সদর উপজেলার চক আমহাটি গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। আলম নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য বলে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম নিশ্চিত করেছেন।  

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী পারভীন (৩০), দুই শিশু ইব্রাহিম (৭) ও ইসরাইল (৩), বাড়ির মালিক মো. আজিম উদ্দিন (৬০), স্ত্রী ফাতেমা (৫৫), দুই ছেলে হাসান (২০) ও আশিককে (১৬) পুলিশ হেফাজতে ময়মনসিংহ ডিআইজি অফিসে রাখা হয়েছে বলে ভালুকা মডেল থানার ওসি মামুন অর রশিদ জানান। ঘটনার পর পুলিশ, র্যাব ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, নিহত ব্যক্তি উগ্রপন্থি দলের সদস্য এবং বোমা তৈরির বিশেষজ্ঞ ছিলেন। সর্বশেষ রোজার ঈদের পর  কুষ্টিয়ার একটি জঙ্গি আস্তানায় ছিলেন তিনি। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট তাকে গ্রেফতারের জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করলে পালিয়ে ভালুকা উপজেলার অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপন করেন তিনি। ৩/৪দিন আগে ওই বাসাটি ভাড়া নিয়ে আসন্ন ঈদে বিভিন্ন ঈদগাহ মাঠে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মানুষ হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে অবস্থান করছিল বলে নিহতের স্ত্রীর বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান। পুলিশ সুপার আরো জানান, নিহতের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত গত রবিবার সন্ধ্যায় ওই বাসায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হলে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং দেখতে পান ঘরের ভেতর খাটের পাশে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে আছে। বোমায় শিশু ইব্রাহিমও আহত হয়। এ সময় নিহতের স্ত্রী তার দুই সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুলিশ তাদের আটক করে। জানা গেছে, নিহত আলম প্রায় সাড়ে ৩ মাস আগে তার বাবার কাছে এক লাখ টাকা চান। কিন্তু তার বাবা টাকা না দেয়ায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল বাড়ি থেকে চলে আসে। আলম রাজমিস্ত্রী, মোটর সাইকেল মেকানিক ও ট্রাক ড্রাইভারের কাজ করেছেন। তার নিখোঁজের ঘটনায় গত ৬ জুলাই নাটোর থানায় জিডি করেন বাবা আবুল কালাম।