বানারীপাড়ায় রাক্ষুসী সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকায় পুনরায় ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার উত্তর নাজিরপুর, নলেশ্রী, খেজুরবাড়ি ও জম্বদ্বীপ গ্রামের বিশাল অংশ নদী গ্রাস করে ফেলেছে। ইতোমধ্যেই ওই চার গ্রামের বেশকিছু বসতবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর এ অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে উপজেলার মানচিত্র।
এদিকে উপজেলার জম্বদ্বীপ এলাকায় বিআরবি ইট ভাটার একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আরও কয়েকটি ইটভাটা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের নাটুয়ারপাড় হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদসহ আশেপাশের বহু বসত-ভিটা, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। হুমকির মধ্যে রয়েছে উত্তর নাজিরপুর গুচ্ছগ্রাম ও খেজুরবাড়ি আবাসন। গত কয়েক বছর ধরে নদীর অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার, ব্রাহ্মণকাঠি, দান্ডয়াট, উত্তর নাজিরপুর, শিয়ালকাঠী, নলেশ্রী, মসজিদবাড়ি, গোয়াইলবাড়ি, কালিরবাজার ও চাউলাকাঠি গ্রামের কয়েকশত পরিবার তাদের শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে এখন নিঃস্ব ও রিক্ত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। সন্ধ্যা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করায় প্রতিনিয়ত সন্ধ্যার ভাঙন বেড়েই চলছে।
জানা গেছে, এ জনপদের বালু ব্যবসায়ীরা অপরিকল্পিত ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর দুই পাড়ে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে নদীর গতিপথ পাল্টে গেছে। নদী ভাঙন রোধে বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য পরিমল জনস্বার্থে গত বছরের ডিসেম্বরে উচ্চ আদালকে রিট পিটিশন দায়ের করলে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের কাছে নদী ভাঙন রোধে কেন বালুমহাল ইজারা দেওয়া বন্ধ করা হবে না মর্মে জবাব চেয়ে পাঠান। এর ফলে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নদীতে বালুমহাল ইজারা দেওয়া হলেও চলতি বছর এ উপজেলায় বালুমহাল ইজারা বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু বালু দস্যুরা হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।
এ দিকে সন্ধ্যার ভাঙন অব্যাহত থাকায় নদী তীরবর্তীদের মাঝে সব সময়ই আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভাঙন কবলিতরা জানিয়েছেন বছরের পর বছর সন্ধ্যার ভাঙন অব্যাহত থাকলেও ভাঙন রোধে সরকারি উদ্যোগ না থাকায় তাদের হতাশা বেড়েই চলছে।
এ অবস্থায় তারা প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/নূহু
