আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা আশুগঞ্জের গরু খামারিদের

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৭, ০২:৪৩

জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় এমন ওষুধ এবং খড়-ভুষিসহ দেশীয় খাবার দিয়েই গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি হাতে নিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার গরু খামারিরা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণের মাধ্যমে এবার বাড়তি লাভের আশা করছেন তারা। তবে উপজেলার হাটগুলোতে ভারতীয় গরু আসার কারণে ন্যায্য দাম না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন খামারিরা। ভারত থেকে গরু আসায় এখানকার খামারি ও ব্যবসায়ীরা লোকসানের পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের টাকাসহ পুঁজি হারানোর আশঙ্কা করছেন। বাজারে  ভারতীয় গরু যাতে আর আসতে না পারে সরকারের কাছে সেই দাবি জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিনে বিভিন্ন খামারে ঘুরে জানা যায়, উপজেলায় শতাধিক দেশি জাতের ছোট বড় গরু-মহিষের খামার রয়েছে । এসব খামারে গরু, মহিষ ও ছাগল পালন করা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন হাট থেকে কয়েক মাস আগে বিভিন্ন জাতের বিপুল পরিমাণ ছোট দেশীয় জাতের গরু, মহিষ, ছাগল ক্রয় করে লালন-পালন শুরু করে খামারিরা। যা স্থানীয় কোরবানির বাজারের চাহিদা মিটিয়ে জেলার বিভিন্ন হাটে তোলা হবে। দেশীয় পদ্ধতি ব্যবহার করে এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয় এমন খাবার ব্যবহার করে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য এই এলাকার গরু-মহিষের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই খামারিরাও এবার তুলেছেন অনেক বেশি গরু, মহিষ। ব্যবসায়ীদের আশা এবারের হাটে আশানুরূপ দামও পাওয়া যাবে। তবে বাজারে ভারত থেকে গরু আসতে শুরু করায় ক্ষতিগ্রস্ত  হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। তাই এখানকার খামারি ও ব্যবসায়ীদের দাবি: অন্য বছরের মত ভারত থেকে  কোরবানির পশু আমদানি যেন না করা হয়।

আশুগঞ্জের গরু খামারি মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের এখানে দেশীয় পদ্ধতি ব্যবহার করে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়। গরুকে নিয়মিত খৈল, ভুসি, কুড়া এবং ভুট্টা খাইয়ে এবং নিয়মিত যত্ন করে এগুলোকে মোটা করা হয়। এটি সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে করার কারণে কোনো রকম ঝুঁকি নেই এবং খরচও হয় বেশি। তাই আমাদের দেশের কোরবানির পশুগুলোর ন্যায্য দাম পাওয়ার জন্য ভারত থেকে কোরবানির পশু আমদানি না করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। অপর খামারি মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, আমাদের গরু-মহিষের ন্যায্য দাম পেতে হলে ভারত থেকে গরু-মহিষ আমদানি বন্ধ করতে হবে। যদি ভারত থেকে আমদানি করা হয় তাহলে আমাদের মারাত্মক লোকসানে পড়তে হবে। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আর খামার করা থেকে বিরত থাকা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চিকিত্সক মোঃ আছিরউদ্দিন জানান, দেশীয় পদ্ধতিতে গরু-মহিষ মোটাতাজাকরণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা করছেন। গরু মোটাতাজাকরণে নিষিদ্ধ ওষধু ব্যবহার না করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও খামারিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত সবগুলো খামারে আমাদের মনিটরিং চলমান আছে। এছাড়াও তিনি আরো জানান, খামারসহ বিভিন্নভাবে আসা প্রায় ছয় হাজার কোরবানির পশু আশুগঞ্জসহ এর আশেপাশের কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণের জন্য মজুদ রয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু