লামায় খাল সাঁতরে স্কুলে!

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৭, ১৪:৩৫
জমায়তি ত্রিপুরা, রিতু বড়ুয়া, সুমি বড়ুয়া, মুন্নি বড়ুয়া ও তাদের সহপাঠীরা প্রতিদিন পোপা খাল সাঁতার কেটে স্কুলে যায়। ওরা সবাই বান্দরবানের লামা সদর ইউনিয়নের এম. হোসেন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সেতু না থাকায় তাদের সাঁতার কেটে খাল পার হতে হয়।
 
এলাকাবাসী জানায়, লামা সদর ইউনিয়নের মেউলারচর, বৈক্ষ্যমঝিরি, বৈল্যারচর, পাহাড় পাড়া, চিউনি মুখ, বরিশাল পাড়া, এম হোসেন পাড়া, তাউ পাড়া, হেডম্যান পাড়া, পানসি পাড়া, খ্রিস্টান পাড়া, গিলা পাড়া, কায়রং পাড়া, গুনদু পাড়া, দোছড়ি পাড়া, নতুন পাড়া, টাংকু পাড়া ও কলাই পাড়া এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে পোপা খাল। খালের ওপর সেতু না থাকায় এলাকাবাসী নৌকা দিয়ে পার হয়। নৌকা না থাকলে সাঁতার কেটে খাল পার হয় তারা। তবে এম. হোসেন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য খাল পার হওয়াটা বেদনাদায়ক। নৌকা না পেয়ে তাদেরও সাঁতার কেটে খাল পার হতে হয়।   
 
বিদ্যালয়ের সভাপতি এম রবিউল আলম জানান, একটু বৃষ্টি হলেই পোপা খাল পানিতে ভরে যায়। তখন শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁতার কেটে স্কুলে যায়। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতি বর্ষা মৌসুমে শিশু থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠান না অভিভাবকরা। সাঁতার জানা চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই এ সময়ে বিদ্যালয়ে আসে। 
প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জিয়াবুল হক বলেন, শিশুদের সাঁতার কেটে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। ভেজা কাপড় নিয়েই শিশুরা ক্লাস করে। 
 
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ জানান, চলতি অর্থ বছরে পোপা খালে সেতু নির্মাণের জন্য উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেছেন, শিগগিরই পোপা খালের উপরে সেতু নির্মাণ করা হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি/এমআই