প্রতিবন্ধী নারীর বিচারপ্রাপ্তি সহজ করার তাগিদ

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৫০

 ইত্তেফাক রিপোর্ট

দিনের পর দিন প্রতিবন্ধী নারী নির্যাতন ও বিচারহীনতার ঘটনা বেড়ে চলেছে বলে মনে করেন বিজ্ঞজন। দরিদ্রজনগোষ্ঠী হওয়ায় বিচারহীনতা তাদের আরেক বঞ্চনা হয়ে দাঁড়ায় বলে মন্তব্য করেন তারা। তাই বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধী নারীর প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার তাগিদ তাদের।

গতকাল শনিবার উইমেন উইথ ডিজএবিলিটি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডাব্লিউডিডিএফ) আয়োজিত ডেইলি স্টার ভবনে অনুষ্ঠিত সংলাপে এ তাগিদ দেন তারা। ‘বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধী নারী প্রবেশগম্যতার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সংলাপের মূল প্রবন্ধে বলা হয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও সেবা প্রদানকারী ব্যক্তিবর্গকে সংশ্লিষ্ট কর্মে নিযুক্ত করা জরুরি। মূল প্রবন্ধে আরো জানান হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর খানাজরিপ অনুযায়ী প্রতিবন্ধী নারীর সংখ্যা ৮২ লাখ; যার মধ্যে ৯৯ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ১ শতাংশের কমসংখ্যক প্রতিবন্ধী মেয়েশিশু স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায়। এবং ৯৬ শতাংশ প্রতিবন্ধী নারী মানসিক, শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার।

ডাব্লিউডিডিএফ-এর চেয়ারপার্সন শিরিন আক্তার স্বাগত বক্তব্যে জানান, আইনের অপর্যাপ্ততা না থাকলেও আইনের মধ্যে প্রতিবন্ধী নারীদের বিচার প্রক্রিয়া কেমন হবে? সে বিষয়ে স্পষ্টতা নেই। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান আইনি সেবা প্রদান করেন, আশ্রয় প্রদান করেন ও যে সকল সেবাসংস্থা এই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত তাদের সংশ্লিষ্টতা প্রতিবন্ধী নারীদের বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য গণমাধ্যম ও অন্যান্য সেবা প্রদানকারী সংস্থা যদি আন্তরিক ও সর্বজনীন সেবা ও সহযোগিতা প্রদান করে তাহলে হয়তো বিচার পাওয়া সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য আরোমা দত্ত এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগীয় প্রধান ড. সানজিদা আক্তার, নিজেরা করির নির্বাহী পরিচালক খুশি কবীর, দীপ্ত ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া কে হাসান, ইউএন উইমেন-এর দেশীয় প্রতিনিধি সুকো ইসিকাওয়া, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাবেরী গাইন। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউডিডিএফ-এর নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি।