বিশ্বের শীর্ষ সাত ধনী নারী যেভাবে এতো সম্পদের মালিক হলেন তারা

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৫৭

 

ইত্তেফাক ডেস্ক

অনলাইনে পণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং তার স্ত্রী ম্যাকেনজি ডিভোর্সের কিছু শর্তের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। ম্যাকেনজি অ্যামাজনের ৪ ভাগ শেয়ারের মালিক হওয়ায় তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়াবে তিন হাজার কোটি ডলারেরও বেশি। সেই হিসেবে তিনি হবেন তৃতীয় ধনী নারী এবং নারী-পুরুষ মিলিয়ে ২৪তম ব্যক্তি। তার ধনী হওয়ার খবরে স্বাভাবিকভাবে অন্য ধনী নারীরা কিভাবে সম্পদের মালিক হলেন তা নিয়ে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।

১. ফ্রাঁসোয়াস বেটাকোর মেয়ার

মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ডলার। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসেবে, বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকার ১৫ নম্বরে। ফরাসি কসমেটিক কোম্পানি ল’রিয়েলের উত্তরাধিকারী। তিনি এবং তার পরিবার এই কোম্পানির ৩৩ শতাংশের মালিক। বয়স ৬৫। সব সম্পদ পেয়েছেন মায়ের কাছ থেকে। তার মা ২০১৭ সালে মারা যান। এ নিয়ে দীর্ঘ বিরোধেও জড়িয়েছিলেন। মেয়ার মামলা করেছিলেন যেখানে তিনি অভিযোগ করেছিলেন তার মাকে আশেপাশের কিছু ব্যক্তি ব্যবহার করছে। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর আগে তাদের মধ্যে সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হয়েছিল।

২. এলিস ওয়ালটন

সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি ডলার। ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় ১৭ নম্বরে। বয়স ৬৯। অন্যতম বৃহত্ মার্কিন সুপারমার্কেট ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের একমাত্র কন্যা। তিনি তার দুই ভাই থেকে একেবারেই আলাদা ধরনের মানুষ ছিলেন। পরিবারের ব্যবসা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন নিজেকে।

৩. ম্যাকেনজি বেজোস

সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলার। এটা কেবল অ্যামাজনের যতটুকু মালিকানা তিনি পাবেন তার আর্থিক মূল্য। মোট সম্পদের পরিমাণ এর চেয়েও বেশি হবে। কতো বেশি সেটা জানতে আগামী ফোর্বস ম্যাগাজিনের দিকে চোখ রাখতে হবে। বয়স ৪৮। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসকে তিনি বিয়ে করেন ১৯৯৩ সালে। অ্যামাজনে যারা প্রথম চাকরি শুরু করেন তাদের একজন ছিলেন ম্যাকেনজি। তিনি যোগ দিয়েছিলেন অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে। ম্যাকেনজি একটি এন্টি-বুলিং সংস্থাও গড়ে তুলেছেন।

৪. জ্যাকুলিন মার্স

তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার ৪শ’ কোটি ডলার। ধনী মানুষের তালিকায় ৩৩ নম্বরে। বয়স ৭৯। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ কনফেকশনারি মার্সের এক তৃতীয়াংশের মালিক। তার দাদা/নানা ফ্র্যাঙ্ক ১৯১১ সালে এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরিবারের এই ব্যবসায় তিনি কাজ করেছেন প্রায় ২০ বছর। ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি বোর্ডের সদস্যও ছিলেন।

৫. ইয়ান হুইয়ান

তার মোট সম্পদের পরিমাণ দুই হাজার ২শ’ কোটি ডলারেরও বেশি। চীনের সবচেয়ে ধনী মহিলা। আর বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় ৪২ নম্বরে। বয়স ৩৭ বছর। চীনে বাড়ি-ঘরের ব্যবসা করে এরকম প্রতিষ্ঠান কান্ট্রি গার্ডেন হোল্ডিংসের বেশিরভাগ অংশেরই মালিক তিনি। কোম্পানিতে তার ৫৭ ভাগ শেয়ারের বেশিরভাগই তিনি তার পিতার কাছ থেকে পেয়েছেন।

৬. সুজান ক্লাটেন

তার সম্পদের পরিমাণ দুই হাজার ১শ’ কোটি ডলার। বিশ্বে ধনীদের তালিকায় ৪৬ নম্বরে। বয়স ৫৬। জার্মান এই নারীর ফার্মাসিউটিক্যালস ও গাড়ির ব্যবসা। রাসায়নিক কোম্পানি আলটানা এজি’র ৫০ভাগ তিনি পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে, তার পিতামাতা মারা যাওয়ার পর। বিএমডাব্লিউ গাড়ির ৫০ ভাগেরও মালিকানা তার ও তার এক ভাইয়ের। পরে আটলান্টার একক মালিক হন তিনি। আরো কিছু কোম্পানিরও শেয়ার কিনে নেন তিনি। সেগুলোর মধ্যে বায়ুশক্তি থেকে শুরু করে গ্রাফাইট উত্পাদনকারী কোম্পানিও রয়েছে।

৭. লরা পাওয়েল জবস

তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৯শ’ কোটি ডলার। বিশ্বের ধনীদের মধ্যে ৫৪তম। তিনি সফটওয়্যার কোম্পানি অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের স্ত্রী। স্বামী মারা যাওয়ার পর উত্তরাধিকার সূত্রে অ্যাপল ও ডিজনির দুই হাজার কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হন তিনি। বয়স ৫৫। -বিবিসি