পাগলের খপ্পরে

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৮

সাইফুল ইসলাম জুয়েল-এর

(গত সংখ্যার পর থেকে)

 

সবাই এবারে পড়িমরি করে ছুট লাগাল। এমনকি চাকলদারও দোকান ছেড়ে দিলো ভোঁ-দৌড়। কিন্তু হিরু অবিচল। সটান আগের স্থানেই বসে রইল সে।

নুরা পাগলা হিরুর আচরণ দেখে কিছুটা অবাক হলো। সে এগিয়ে এসে হিরুর পাশে বসল, ‘কী ব্যাপার, তুমি পালালে না ক্যানো?’

‘কেন পালাব?’

‘বোমায় তুমার ভয়-ডর নাই?’

‘তা থাকবে না কেন? জানের ভয় কার না থাকে!’

‘তাইলে?’

‘আগে বলো—তুমি কে?’

‘আমি পাগল। নুরা পাগল। লোকে আমারে ডাহে নুরা পাগলা নামে।’

‘তাহলে তো হলোই।’

‘কী হলো?’

‘তোমার প্রশ্নের উত্তর।’

‘উঁহু, হলো না। বিস্তারিত খুইলা কও। তুমার কাছে কেউ শর্ট কোয়েশ্চেন জানতে চায়নি। ব্রড কোয়েশ্চেনের আনসার দাও।’

কোনো বোমা-টোমা না ফাটতে দেখে এরই মধ্যে অন্য সবাই মানে মানে ফিরে এসেছে। একজন ওদের কথোপকথনের শেষ লাইনটা শুনে বলল, ‘হিরু ভাই, নুরা পাগলা কিন্তু আগে শহরে আনসারে চাকরি করত। পাগল হইলেও সে কিন্তু ভালো ইংলিশ বলতে পারে।’

‘ও-ও।’

‘কী হলো, আমার প্রশ্নের উত্তর দিচ্চো না ক্যানো?’ নুরা পাগলা অধৈর্য হয়ে উঠল।

‘কোন প্রশ্নের?’ হিরু নির্বিকার।

‘আরে! পাগলামি বাদ দাও। কও তো তুমি পালালে না ক্যানো?’ নুরা পাগলা অস্থির।

‘তুমিই বললে তুমি একজন পাগল। তো পাগলের কাণ্ডকীর্তিতে পালাব কেন?’

‘তাই বইলা বোম্ব ফাটলেও পালাইবা না?’

‘আরে, ছাগলে কিনা খায় আর পাগলে কিনা করে, থুড়ি ফাটায়। তুমি যেটা বোমা বলে ফাটাবে, সেটা কি সত্যিকারের বোমা হবে? তুমি তো পাগল। তোমার কি কোনো তালঠিক আছে?’

হিরুর কথা শুনে নুরা পাগলার যেন খুব আঁতে লাগল। সে বলল, ‘ঠিক আছে। এইবার কাদার দলা আছিল দেইখা বাঁইচা গ্যাছ। নেক্সট টাইম ঠিকি বোম্ব ফাটামু। তাও এক্কেবারে তোমার পাচার নিচে রাইখাই!’

হিরু মুচকি হেসে বলল, ‘সে তুমি পারবে না।’

‘এতটা শিওর হচ্চো কী কইরা?’

‘কারণ—তুমি পাগল বলেই বোমা মনে করে কাদা ভর্তি পলিথিন ছুড়েছো। সামনেরবার তুমি সত্যিকারের বোমা ছুড়লে তখন আর তুমি পাগল থাকবে না। তুমি সুস্থ মানুষ হিসেবে বিবেচিত হবে। তখন বোমা ছোড়ার অপরাধে তোমার শাস্তি হবে। জেলের ঘানি টানতে হবে তোমাকে।’

হিরুর কথা শুনে হিরু পাগলা ঢোঁক গিলল। সে পাগল হতে পারে, তাই বলে তো চৌদ্দ শিকের ভিতর বাকি জীবন কাটাতে রাজি নয়!

নুরা পাগলা বলল, ‘আইচ্চা বাদ দাও। লোকে পাগল দেইখা ভয়েই দৌড় লাগায়। কারণ, পাগলে কি না করে। কিন্তুক, তুমি পালাইলা না ক্যানো?’

‘আসলে আমি দেখতে চাইছিলাম—একজন পাগল কী কী কাজ করে! বলতে পারো—এটা আমার বহুদিনের ইচ্ছে।’

‘এ আবার কেমনতর শক-আহ্লাদ!’

‘যেমন করে পাগল হওয়া সত্ত্বেও তুমি আমাকে ‘তুমি তুমি’ করে সম্বোধন করছ। দুনিয়ার বাকি সব পাগলে তো ‘তুই’ ছাড়া কথাই বলে না।’

‘তুমি আমার শকের কতাও জাইনা গ্যাছ দেখচি। আসলে আমি পাগল হইবার পারি, তাই বইলা তো ইচ্চা-অনিচ্চাগুলারে বাদ দিবার পারি না। বলতে পারো—দুনিয়ার বাকি সব পাগলদের থাইকা এইটা আমার ইস্পেশালিটি!’

হিরু হেসে বলল, ‘শখ? নাকি মাইরের ডর?’

এবার নুরা পাগলার দ্বিগুণ অবাক হওয়ার পালা। ‘ইয়ে মানে... তুমি বুঝলা কী কইরা?’

‘‘তুই’ বললে পাবলিকের প্যাঁদানি খেতে পারো। তাই মাইরের ডরে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করছ। কী ঠিক বলেছি তো?’

নুরা পাগলা এবার যেন খুব লজ্জা পেল। সে বলল, ‘এইভাবে ভরা মজলিসে ইজ্জত পাংচার না করলেও পারতা। পাগল বইলা কি আমার মান-সম্মান নাই?’

হিরু কোনো জবাব না দিয়ে মুচকি মুচকি হাসতে লাগল।

নুুরা পাগলা আরও বেশি উত্সাহী হয়ে উঠল। ‘কী বললা না তো, কীভাবে বুঝলা?’

‘এক কাপ চা খাওয়াবে?’

হিরুর এই কথা শুনে নুরার তো বটেই উপস্থিত সকলেরই বিস্ময়ভাব যেন পারদের সর্বোচ্চ সীমা ছুঁইছুঁই করছে!

নুরা পাগলা বলল, ‘ক্যানো, তুমার পকেডে টাহা নাই? পাগলের কাচ থাইকা কেউ কুনুদিন কিচু খাইচে বইলা তো শুনি নাই।’

‘সেজন্যই তো খাব। বিশ্ব রেকর্ড হবে, কী বলো?’

নুরা পাগলা দুই কাপ চা অর্ডার দিলো। চাকলাদার দু কাপ চা বানানোর পর হিরু এক অবাক করা কাজ করল। দু কাপ চা-ই সে একটা গ্লাসে ঢেলে সুড়ুত্ সুড়ুত্ করে খেতে শুরু করল।

‘এইডা কী হইল? আমি তুমারে চা খাওয়াচ্চি। আর তুমি কিনা আমারডায়ও ভাগ বসাইলা?’

‘খাওয়াবেই যখন, এককাপ কেন খাবো!’ হিরু আর কোনো কথা না বলে চা খাওয়ায় ধ্যান দিলো।

নুরা পাগলার বিস্ময়ভাব তখন চরমে। সে এবার অন্যদের দিকে তাকাল, ‘কী খবর, তুমরা সব এইহানে খাড়াইয়া আছ ক্যান? যাও, যাও কইতাছি।’

সবাই তখন নুরা পাগলার ধমক খেয়ে দূরে সরে গেল।

‘এটা তুমি ভালো কাজ করেছ।’ হিরু মুখ খুলল। ‘তোমাকে আমি ভয় না পেতে পারি। তাই বলে বাকি সবাইও যদি তোমার পাগলামিতে ভয় না পায়, তাহলে চলবে কী করে? ভয় জিইয়ে রাখতে হবে, বুঝলে।’

‘জি ওস্তাদ।’ হিরুর প্রতি প্রবল শ্রদ্ধাভরে নুরা পাগলার সম্বোধন বদলে গেল।

হিরু মুচকি হেসে বলল, ‘এবার বলো তো—তুমি পাগল হলে কী করে? তুমি নাকি আগে আনসারে চাকরি করতে, এখন করছ না কেন?’

‘চাকরিডা তো পাগল হইবার পর পরই চইলা গ্যালো। আমার পাগল হওয়ার কারণডা কইতাচি, তার আগে কও—তুমি কহনো কুনু মেয়েরে ভালাবাসচো?’

‘হ্যাঁ।’

‘বালিকা কি তুমারে ভালাবাসচে?’

‘হ্যাঁ।’

‘কহনো চ্যাঁকা খাইছো?’

‘না।’

‘ওওও। সেজন্যই এহনো পাগল হওনি।’

‘ছ্যাঁকা খেলেই বুঝি লোকে পাগল হয়?’

‘তা অবশ্য না। আইচ্চা, তুমার গার্লফ্রেন্ড তুমারে জ্বালায় না?’

‘গার্লফ্রেন্ড আসবে কোত্থেকে?’

‘কেন, তুমিই না কইলা—তুমি একজনরে ভালোবাসতা। হ্যায়ও তুমারে ভালাবাসত?’

‘একজনের কথা কই বললাম?’

‘ওওও, একাধিকজন আছিল বুঝি?’

‘হ্যাঁ। আমি বিভিন্ন সময়ে কয়েকজনকে ভালোবাসতাম। কিন্তু কখনো তাদেরকে বলা হয়নি তা। সে অবশ্য আমার বাল্যকালের কথা।’

‘বাল্যকালেই এতজনরে ভালাবাসচো? বড় হয়া না জানি কত ডজন ডজন মেয়েরে ভালাবাসচো!’

‘আরে না। বড় হবার পরে একজনকেও ভালোবাসা হয়নি। আসলে আমি যে কাউকে ভালোবাসব—এমন কাউকে পেলামই না এখনো।’

‘তাইলে তুমারে যারা ভালাবাসে, তারা?’

‘তারা আমাকে ভালোবাসে। প্রেমপত্র, এটা-ওটা গিফট পাঠায়। কিন্তু এসব করলেই তাদের কেন ভালোবাসতে হবে?’

‘তুমার কথা শুইনা আমার মাতা আউলা-বাউলা হয়া যাইতাছে। মনে হইতাচে—মনে হইতাচে—আমি বুঝি এহনই পাগল হয়া যামু!’

‘আর হবে কি, তুমি তো এমনিতেই পাগল!’

‘ওও, তাই তো! তাইলে তুমার কতা শুইনা আমি বুঝি এইবারে সুস্থ হয়া যামু।’

‘তা ভালো, তা ভালো।’

‘উহু, তা মোটেও ভালা কাজ নয়। ভালা হয়া গ্যালেই তো বাড়িতে ফিরা যাইতে হইবে। আর বাড়ি ফিরা যাওয়া মানেই তো বউয়ের খপ্পরে পড়া!’

‘তাতে সমস্যা কী?’

‘তুমি আমার বউয়ের খপ্পরে পড়লে বুঝতা! উলি বাবা, ভাবলেই গায়ে কাঁটা দিয়া ওঠে।’

হিরু মুচকি হেসে বলল, ‘বেশ তো, তাহলে পাগল হয়েই থাকো।’

‘তাই তো থাকচি। আচ্চা একটা কথা কও তো—তুমি যে তুমার লাভ-কাহিনি সম্পর্কে অদ্ভুতুড়ে ঘটনা শুনাইলা, তুমার সঙ্গীরা কি জানে?’

‘না, ওদেরকে বলা হয়নি কখনো।’

‘আমি যদি কইয়া দিই?’

‘দেবে।’

‘ওরা জানলে তুমার কুনু সমস্যা নাই?’

‘তা আছে বটে। তবে তুমি বললে সমস্যা হবে না।’

‘ক্যানো?’

‘আরে তুমি তো এক পাগল। ওরা তোমার কথা বিশ্বাস করবে নাকি!’

হিরুর কথায় নুরা পাগলার অহমে বেশ লাগল। সে বলল, ‘আর যদি আমি ভালো হয়া যাই, তহন?’

‘তখন তোমার বউ-ই কাফি!’

অমনি নুরা পাগলা বসা অবস্থা থেকে লাফ দিয়ে উঠে আবার ঝপাত্ করে বসে পড়ল। তার ভাবগতিক এমন যে—মাত্রই বুঝি তার বউ তাকে ঝাড়ুপেটা করেছে!

নুরা পাগলা বলল, ‘থাক ভাই। আমি বাকি জীবনকাল পাগল হয়াই বাঁইচা থাকবার চাই। বরং পাবলিক যাতে আমারে আরও বেশি বেশি ভয় পায় এহন থাইকা হেই চেষ্টা করুম, কী কও?’

‘ঠিক।’ হিরু মুচকি হেসে বলল, ‘এখন তাহলে একটা কাজ করো—কিছু নরম কাদা এনে চাকলাদারের দোকানে সামনে ছড়িয়ে দাও।’

‘কাদা ক্যানো ছড়াব?’

‘তুমি পাগল—এ কথা মানুষকে বোঝাতে হবে না?’

‘ওও, আইচ্চা।’

‘আরেকটা কাজ করবে।’

‘কী?’

‘খান বাড়ির পুকুরে ঘণ্টা দুয়েক গলা পর্যন্ত নেমে ডুব দিয়ে থাকবে।’

‘আর কিচু?’

‘ও হ্যাঁ, তোমার গা থেকে পোশাকটা খুলে আমাকে দাও। ব্যাপক শীত লাগছে। ওটা গায়ে চাপাই।’

নুর পাগলা এবার যেন ক্ষেপে উঠল। ‘আমারে পাগল পাইচো, না? আমার পাগলামোর সুযোগ পাইয়া আমারে যা না তা করতে কইতাচো। করুম না আমি কুনু কাম।’

‘আচ্ছা। আমার কাছে অন্য উপায়ও আছে।’

এই কথা বলা মাত্রই নুরা পাগলা অবাককরা এক কাজ করল। এতক্ষণ সে বেঞ্চে বসা ছিল। এবার বেঞ্চ থেকে মাটিতে বসে পড়ল, খপ করে হিরুর পা দুটি ধরে বলল, ‘দোহাই লাগে ভাই, তুমি আমার বউরে কিচ্চুু কইও না।’

হিরু মুচকি হেসে বলল, ‘আচ্ছা বলব না। এবার যাও তো।’

নুরা পাগলা যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াল।

হিরু ফের বলল, ‘আর হ্যাঁ, চাকলাদারকে চায়ের বিলটা দিতে ভুলো না কিন্তু।’

এই কথা শুনে নুরা পাগলা স্থান ত্যাগ না করে ইতস্তত দাঁড়িয়ে রইল।

হিরু মুচকি হেসে জানতে চাইলো, ‘আর কিছু বলবে?’

‘এই সাতসকালে তুমরা এত্তগুলা লোক এহানে জড়ো হয়া কী করছিলা?’

‘ওসব কথা বাদ দাও। এখন যাও।’

নুরা পাগলা তবুও নড়ল না।

হিরু ফের বলল, ‘আমি কিন্তু এখনই ভাবির কাছে যাব!’

নুরা পাগলা তবুও অনড়।

উপায়ান্তর না দেখে হিরু বিষয়টা খুলে বলল, ‘আসলে ওরা চাইছে আমি যাতে এবার এমপি ইলেকশনটা করি।’

‘আর তুমি? তুমি চাইছ না?’ নুরা জানতে চাইল।

হিরু স্মিত হেসে বলল, ‘আমাকে কি পাগল পেয়েছ?’

‘এত্তগুলা লোক তুমার লগে রয়েচে, তবুও তুমি ‘না’ করচো? তাহলে আমি গেলুম।’

‘যাও। আর যা বলেছি, মনে করে ঠিকঠিক সে কাজগুলো করবে, কেমন!’

‘না, করুম না।’

‘করবে না?’ হিরু বিস্মিত। ‘কেন করবে না? তুমি কি চাও না লোকে তোমাকে ভয় পাক?’

নুরা বলল, ‘আমি বাসায় ফিরা যাচ্চি।’

‘তোমার বউ...’ হিরুর চোখে-মুখে বিস্ময় ভাব।

‘এদ্দিন আমি নিজেরে দুনিয়ার সেরা পাগল ভাবতাম। এইবার বুঝলাম—পাগলেরও বস থাহে! সুতরাং আমার আর বাইরে বাইরে ঘুইরা কী কাম! আমি বরং বাড়িত ফিরা যাই।’

‘কিন্তু তোমার বউ...’ নুরা পাগলার আশু অবস্থা কল্পনা করে হিরুরই যেন আঁতকে ওঠার পালা।

নুরা পাগলা বলল, ‘তুমার মতো পাগলের খপ্পরে যে পড়েচে, দুনিয়ার আর কুনু কিচুই তার কাচে ভয়ংকর নয়! আচ্চা—যাওয়ার আগে একটা কতা কইয়া যাই—তুমি নির্বাচনে দাঁড়াইলে কইয়ো। আমি আর আমার বউও কিন্তু এই আসনেরই ভুটার। অহন চলি।’

নুরা পাগলা চলে গেলেও হিরু কতক্ষণ স্থির হয়ে বসে রইল। এরমধ্যে কখন যে ওর সঙ্গীরা এবং বলা বাহুল্য চাকলাদার এসে আগের মতো জায়গা দখল করে নিয়েছে, ও টেরই পেল না।

মোস্ট সিনিয়র আনোয়ার বলল, ‘পাগলটা গেছে, ভালোই হয়েছে। বুঝলে হিরু, আমরা এতক্ষণ ধরে আলোচনা করে ঠিক করেছি—তোমাকে নির্বাচনে দাঁড়াতেই হবে। দেখলে তো—একটা পাগলেও তোমাকে সপরিবারে ভোট দিবার চায়। এখন আমরা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি—এবার তুমি এমপি হবেই হবে। এমনকি মিনিস্টারও হয়ে যেত পারো!’

হিরু উঠে দাঁড়াল। তার মাথা কাজ করছে না ঠিকঠাক। ‘এমন সব পাগলের খপ্পরে পড়লে কারই বা মাথা ঠিক থাকে!’ বিড়বিড় করে এ কথা বলে সে গটগট করে হাঁটতে শুরু করল।

‘কী হলো? কই চললে?’

হিরু কোনো জবাব দিলো না। এরই মধ্যে সে নিজের ভবিষ্যত্ কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে ফেলল, প্রথমে সে চাকলাদারের দোকানের সামনের জায়গাটা এমনকি সমস্ত বেঞ্চি পচা কাদা দিয়ে মাখাবে। যাতে কেউ ওখানে বসতে না পারে। গায়ে আর কোনো পোশাক-টোশাক রাখবে না (অবশ্য শরীরের নিম্নাংশের পোশাকের কথা আলাদা!)। তারপর সে খানদের পুকুরে গলা পানি নেমে ঘণ্টা দুয়েক দাঁড়িয়ে থাকবে!   g