অপেক্ষা শুধু ঈদের ত্রাণের...

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৪:৪৪
 
রাত পোহালেই ঈদ ! আনন্দের বাতাস বইতে শুরু করেছে চারদিকে। কিন্তু নিম্নবিত্ত মানুষের মনে এবার ঈদের আনন্দ নেই। কোথায় ত্রাণ দেওয়ার কথা শুনলেই ছুটে যাচ্ছে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের নর-নারী। যেন একটু খাবার পেয়ে ঈদের দিনে পরিবারকে নিয়ে কিছু খেতে পারে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো।
 
শুক্রবার বেলা ২টায় ঠাকুরগাঁও পৌর মেয়রের বাড়ির সামনে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর একটু ত্রাণের জন্য কেউ মেয়রের বৈঠকখানার বারান্দায়, অনেকে বাড়ির সামনে রাস্তায় ক্লান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, আবার অনেক শিশু মহিলা, পুরুষ কেউ রাস্তায় দুই পাশে কিছু পাওয়ার জন্য প্রহর গুনছেন।
 
মেয়রের বাড়ির বৈঠকখানার বারান্দায় শুয়ে আছেন এক জামেলা (৬৫) নামে বয়স্ক বৃদ্ধা। শুয়ে থাকার কারণ তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকার মানুষের কাছে শুনেছি এই বাড়িতে নাকি ঈদের জন্য খাবার দিবে। তাই সকালেই এখানে এসেছি। কিন্তু অনেকক্ষণ অপেক্ষার পরেও কোন খবর নেই। অবশেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বারান্দায় শুয়ে কিছু পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছি।
 
এবার ঠাকুরগাঁও জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নবিত্ত মানুষের ঘরে ঈদের আনন্দ নেই। ঈদের ত্রাণের জন্য অন্যান্য অপেক্ষাকৃত মানুষের সাথে কথা বলছে তারা খুবই হতাশা ব্যক্ত করেন। 'কুরবানির ঈদ আসি গেইছে, কিন্তু বাড়ি ঠিক করমো না খরচাপাতি করমো? হামার বড় কষ্ট, হামার বাড়িত টাকা-পয়সা কিচ্ছু নাই। গরিব মানুষ হামরা, কেংকরি এইলা ঠিক করমো। কুরবানি ঈদের জইন্যে হামার খুব কষ্ট হই গেইছে। এলা কুরবানি করমো না বাড়ি ঠিক করমো?' কথাগুলো বলছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হঠাৎপাড়া এলাকায় রিয়াজ আলী স্ত্রী সামলা খাতুন।
 
ঠাকুরগাঁও পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, এবার পৌর শহরের কিছু মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিয়মিত তাদের খোঁজ-খবর রাখা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষেও তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছি।
 
ইত্তেফাক/জামান