সিলেটের জাফলং, রাতারগুল, পান্তুমাই ও বিছনাকান্দি সীমান্ত এলাকাগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে। বৃষ্টির মৌসুমে সিলেটের সব কটি রাস্তার এখন বেহাল অবস্থা। তারপরও অনেক ভোগান্তি নিয়ে পর্যটকরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটন স্পটগুলো। সবাই ঈদের ছুটির আনন্দে আত্মহারা। এদিকে পর্যটন সমৃদ্ধ এলাকাগুলো যেন এই বর্ষায় আরো উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে। এবার প্রলম্বিত বর্ষায় হাওরবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। তারপরও বৃষ্টির স্পর্শে পাহাড় ও বনবনানী যৌবনের আনন্দে মাতোয়ারা। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণা ধারাকে যেন আরো আকর্ষণীয় মনে হয়। পাহাড়ি নদীতেও যেন প্রাণের স্পন্দন। তাই সৌন্দর্য্য পিপসুরা ছুটে এসেছেন সীমান্তবর্তী সিলেটে নয়ন ও মন জুড়ানো দৃশ্য দেখতে। স্নিগ্ধ-কোলাহলমুক্ত অপূর্ব এই পরিবেশে তারা হারিয়ে যাচ্ছেন মনের আনন্দে। নানা বয়সের মানুষের সমাগমে সীমান্তবর্তী এসব অঞ্চল যেন এক মন মাতানো পরিবেশে আবিষ্ট।
খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের উপর থেকে নেমে আসা ঝর্ণা ধারা, পাহাড়ি নদী ও তার তলদেশে সারি সারি সাদা পাথর ও তার উপর দিয়ে ঝিরঝির করে বয়ে যাওয়া স্ফটিক স্বচ্ছ পানি যেন দেহ ও মনকে শীতল করে দেয়। প্রকৃতির এই অপূর্ব রূপ এক মোহনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এসব অবলোকন করতে পর্যটকদের মিলন মেলায় পরিণত এসব এলাকা। মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি প্রকৃতি কন্যা জাফলং, পান্তুমাই, বিছনাকান্দি, মাধবকুন্ডসহ বিশ্ব সেরা জলার বন রাতারগুলে একবার গেলে মন চাইবে না ব্যস্ত লোকালয়ে ফিরে যেতে। অসংখ্য নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী ও শিশু কিশোরের উপস্থিতিতে জাফলং, পান্তুমাই, রাতারগুল, বিছনাকান্দিতে যেন প্রাণের স্পন্দন ফিরে এসেছে। চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী অনেকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, দীর্ঘদিন হরতাল-অবরোধের কারণে তারা আসতে পারেননি সিলেটের এসব নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে।
নগরী থেকে ৬০ কিলোমিটার অদূরে জাফলং। ভারতের আসাম রাজ্যের মেঘালয় পাহাড়ের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা। বলা হয় জাফলং ২য় বৃহত্তম পর্যটন এলাকা। এলাকাটি যেমন ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয়, সরকারিভাবে এর গুরুত্বও রয়েছে। তাই এখানে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু হেটেল, রিসোর্টসহ নানা ব্যবসা গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলার পর্যটক ছাড়াও বিদেশি পর্যটকরাও প্রকৃতি কন্যা জাফলংকে এক নজর দেখতে আসেন। পর্যটকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে জাফলং এলাকায় দেশি-বিদেশি ভিন্ন রকম ব্যবসা-বাণিজ্য। তবে সিলেট-তামাবিল-জাফলং সড়ক, সিলেট সালুটিকর হাদারপার সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার বেহাল অবস্থা দেখে পর্যটকরা বুক ভরা ব্যথা নিয়ে ফিরছেন। এদিকে বিশ্বের অন্যতম জলার বন রাতারগুল সোয়াম ফরেস্ট দেখতে আসছেন পর্যটকরা। আরেক প্রকৃতি কন্যা পান্তুমাইর ঝর্ণা দেখতে পর্যটকপ্রেমীদের ভিড় জমেছে। পর্যটকরা জানালেন, এসব পর্যটন স্পট দেখে তারা মুগ্ধ। কিন্তু যোগযোগ ব্যবস্থাসহ রাস্তাঘাটের হাল দেখে তারা কষ্ট পান।
ইত্তেফাক/নূহু
