গলাচিপায় সড়ক সংস্কারের দুই মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ধস

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০১:৩০

নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে সংস্কারের দুই মাস না যেতেই গলাচিপা-বোয়ালিয়া সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান ধসে পড়েছে। গলাচিপা পৌরসভার শেষ প্রান্ত রতনপুর থেকে চরখালী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কটির দুই পাশে মাটি দেওয়ার কথা থাকলেও নামমাত্র মাটি দিয়ে যেন তেনভাবে কাজ করায় সড়কের  বিভিন্ন স্থান ধসে পড়েছে। ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের পারস্পরিক যোগসাজশে দুর্নীতির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করে এলাকাবাসী।

সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে বিটুমিন কার্পেটিং ও সিলকোট দিয়ে ১ হাজার ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্য গলাচিপা-বোয়ালিয়া সড়ক ২৫ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দে সংস্কার করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দফতরের কর্মকর্তারা এ কাজ তদারকির দায়িত্ব পালন করেন। মাত্র দুই মাস না যেতেই সড়কের  কমপক্ষে ১০টি স্থান ধসে পড়েছে। এর মধ্যে হাবিব মাস্টারের বাড়ি, ইউসুফ খানের বাড়ি, লক্ষ্মী মালের বাড়ি, চরখালী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন কালভার্টের পাশে ধসে পড়ায় যানবাহন চলাচল  ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালীর দ্বীপ এন্টারপ্রাইজের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুঠোফোনে জানান, নির্মাণ সামগ্রীর উচ্চ মূল্য, অফিসের পার্সেন্টেজ, শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় কাজের গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হয় না। সড়কের যেসব স্থান ধসে পড়েছে সে সব স্থানে খাল ও ডোবা থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়ী নয় বলে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা দাবি করেন।

এলজিইডির গলাচিপা প্রকৌশল দফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, মূলত সড়কটির কয়েকটি স্থানে প্রাক্কলনে প্যালাসাইডিং ধরা থাকলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। কিন্তু প্রাক্কলনে প্যালাসাইডিং কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করেনি। এ সড়কের ধস ঠেকাতে ম্যানটেইনেন্স প্রকল্পের আওতায় প্যালাসাইডিংয়ের জন্য ইতোমধ্যে প্রাক্কলন তৈরি করে অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু