একটি ব্রিজের অভাবে রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা সদর ও জেলা সদরের আজো সড়ক যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি। ঐ ইউনিয়নের ৩৩ গ্রামের মানুষের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দারছিড়া নদী পেরিয়ে অন্যত্র যাতায়াত করতে হয়। এই নদী পারাপারের জন্য নেই কোন উন্নত নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেখানকার ২৬ হাজার মানুষের যাতায়াতের ভরসা একমাত্র খেয়া নৌকা। বর্ষা মৌসুমে ও দুর্যোগকালীন সময়ে কখনো কখনো যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পোহাতে হয় লোকজনদেরকে দারুণ দুর্ভোগ।
বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা দ্বীপচরের সমষ্টি বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন। এখানে ৩৩টি গ্রামের লোকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ২৬ হাজার। একদিকে দাড়ছিরা ও অন্যদিকে পানপট্টি নদী এই ইউনিয়নকে উপজেলা ও জেলা সদরের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এখানকার লোকজনদের প্রয়োজনে খেয়া নৌকায় দারছিড়া নদী পেরিয়ে উপজেলা শহরে যাতায়াত করতে হয় তাদের। এই খেয়া নৌকা সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলাচল করে। কিন্তু জরুরি প্রয়োজন হলেও বাকি সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে বড়বাইশদিয়ার মানুষ।
বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, চরাঞ্চলীয় ইউনিয়ন রাঙ্গাবালীর সঙ্গে উপজেলা সদর রাঙ্গাবালী ও জেলা সদর পটুয়াখালীর সঙ্গে আজো কোন সড়ক যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি। নেই কোন উন্নত নৌ-যোগাযোগ। খেয়া নৌকা এই এলাকার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। রাতে খেয়া নৌকা বন্ধ থাকায় এবং দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি প্রয়োজনে লোকজনদের বাইরে কোথাও যাতায়াত করা সম্ভব হয় না। এলাকাবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে রাঙ্গাবালীর কাচিয়াবুনিয়া পয়েন্টে দারছিড়া নদীর ওপর একটি ব্রিজ ও দুই কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন।
রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য কাচয়াবুনিয়া থেকে দারছিড়া নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাছাড়া কোরালিয়া থেকে পাঁচ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও পানপট্টি নদীতে একটি ফেরি সার্ভিস চালু করা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি।
এলজিইডি পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. হানিফ জানান, রাঙ্গাবালীর দারছিড়া নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব এই বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে এই নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের ব্যাপারে আগ্রহী। শীঘ্রই এই ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইত্তেফাক/নূহু
