রোহিঙ্গাদের বিদেশ যাওয়ার নিরাপদ রুট সুনামগঞ্জ

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৭

সিলেট অফিস ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

জন্মনিবন্ধন বা নাগরিকত্ব সনদ দেখিয়ে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বিদেশে যাওয়ার নিরাপদ রুট হিসেবে সুনামগঞ্জকে বেছে নিয়েছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা ও দালাল চক্র। সুযোগে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব সনদ, পাসপোর্ট তৈরি ও ভিসা করে দিতে দালাল চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে বিরাট অংকের টাকা। বিশেষ করে এইসব রোহিঙ্গারা মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে অনেক সময় জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধ কর্মে। এমন তথ্য জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশিরা। তারা জানান, এসব রোহিঙ্গাদের জন্য তাদেরকে অনেক সময় বিব্রত হতে হয়। এরা আবার দালালদের মাধ্যমে বাংলাদেশ হয়ে মিয়ানমারেও যাতায়াত করে। গত বৃহস্পতিবার এভাবে পাসপোর্ট করতে এসে ধরা পড়ে দুই রোহিঙ্গাসহ চার দালাল।

সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ পৌরসভার আলীপাড়ার নাগরিক হিসেবে জন্মনিবন্ধন দেখিয়ে পাসপোর্ট করার আবেদন করে টেকনাফের মালুখলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রিয়াজুল বেগম নামের এক রোহিঙ্গা নারী। পুলিশ খবর পেয়ে তাকে আটক করে। রিয়াজুল বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে পুলিশ কক্সবাজারের উখিয়া মহিরপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আব্দুল হালিমকে শহর থেকে আটক করে। হালিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তাকারী জামালগঞ্জের সাচনাবাজার ইউনিয়নের সুজাতপুর গ্রামের আমির উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, রামনগর গ্রামের নুর হোসেন ও ভীমখালী ইউনিয়নের তেরানগর গ্রামের ফরহাদ আহম্মদকে আটক করা হয়।

সুনামগঞ্জ পাসপোর্ট অফিস সূত্র জানায়, ‘রিয়াজুল বেগমের সব কাগজপত্র পরীক্ষা করে কথা বলার সময় বিষয়টি ধরা পরে। পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ওই নারীকে আটক করে। পরে তার কথা মত পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তাকারী জামালগঞ্জের চার প্রতারক ও অন্য আরেক রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশ।

সুনামগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক অর্জুন কুমার ঘোষ বলেন, কাগজপত্র পরীক্ষার সময় সন্দেহ হয়। পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নাগরিক সনদ বা জন্মনিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করে একদল দালালচক্র।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত বলেন, নাগরিকত্ব বা জন্মনিবন্ধনের আবেদনে কাউন্সিলরদের সুপারিশ দেখলে তাঁদের (কাউন্সিলরদের) উপর আস্থা রেখে প্রতিস্বাক্ষর করি আমি। কাউন্সিলদের বা সংশ্লিষ্ট শাখার এই বিষয়ে আরো সতর্ক হওয়া উচিত।