অগ্নিঝুঁকিতে না’গঞ্জের ৭৫ মার্কেট

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:১১

নারায়ণগঞ্জের বেশির ভাগ মার্কেটেই অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নেই। এ তালিকায় যেমন সিটি করপোরেশনের মার্কেট রয়েছে, তেমনি রয়েছে নামকরা বেসরকারি মার্কেটও। ইতোমধ্যেই এমন ১৫টি মার্কেটকে চিহ্নিত করে অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জের ৭৫টি বিপণিবিতান পরিদর্শন করে অগ্নিঝুঁকির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এর মধ্যে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে ২০টি মার্কেট। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কেটগুলোর অবস্থা ভয়াবহ। কোনো নিয়ম-নীতিই মানা হচ্ছে না। আগুন নির্বাপক যন্ত্র নেই, পানি নেই, নেই ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম। মার্কেটের ট্রান্সফরমার, জেনারেটর, বিদ্যুতের সাব-স্টেশন সব এক জায়গায় করা। বারবার সংশ্লিষ্ট মার্কেট কর্তৃপক্ষকে নোটিস দেওয়া হলেও প্রতিকারের কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র মতে, অগ্নিঝুঁকি প্রতিরোধে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ও অগ্নি আইন (২০০৩) অনুযায়ী ৩০টির বেশি নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করার কথা; কিন্তু অধিকাংশ মালিকই এসবের তোয়াক্কা করেন না। ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, জেলার অগ্নিঝুঁকিতে থাকা ভবনগুলোকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ১৫টি ভবনে অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার সকল অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এ সাইনবোর্ড লাগানো হবে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জেলার মার্কেটগুলোর অধিকাংশের ক্ষেত্রেই নিয়ম মেনে ভবন তৈরি করা হয়নি। অগ্নি দুর্ঘটনারোধে মার্কেটগুলোতে নেই অক্সিজেন সিলিন্ডার, পানির রিজার্ভ ট্যাংক, বালুভর্তি বালতি ও রেসকিউ সিঁড়িসহ অন্যান্য সামগ্রী। বিশেষ করে পুরনো মার্কেটগুলোর বেশির ভাগেই নেই অগ্নিনির্বাপণে কোনোরকম ব্যবস্থা। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলোর মধ্যে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে, নগরীর সিরাজউদদৌলা রোডের সোহেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু রোডের সোনার বাংলা সমবায় মার্কেট, ভুলতার গাউছিয়া মার্কেট, কালিরবাজারের সখিনা মঞ্জিল, নওয়াব প্লাজা, আলিম প্লাজা, হক প্লাজা, সিরাজউদদৌলা রোডের সিকদার ম্যানশন, লাল মিয়া মার্কেট, সুরুজ আলী মার্কেট, কাজী ভবন, ফাতেমা টাওয়ার, ফ্রেঞ্চ মার্কেট, এসএম মালেহ রোডের হাবিব শপিং কমপ্লেক্স, নয়ামাটির অর্চনা মার্কেট, বঙ্গবন্ধু সড়কের নুর ভিলা মার্কেট, সিরাজউদদৌলা রোডের জামির আহমেদ মার্কেট এবং মহিম গাংগলী রোডের আল জয়নাল অলংকার প্লাজা।

এছাড়াও অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে শহরের লঞ্চঘাটের ডিআইটি মার্কেট, বঙ্গবন্ধু রোডের সমবায় নিউ মার্কেট, বেলী টাওয়ার, খাজা সুপার মার্কেট, সান্ত্বনা মার্কেট, চাষাড়ার সিটি করপোরেশন মার্কেট, লুত্ফা টাওয়ার, জামান টাওয়ার, আল হাকিম সেন্টার, হক প্লাজা, দেওভোগ এল এন রোডের হূদম প্লাজা, কালিরবাজারের শ্রী শ্রী জয় কালী মন্দির মার্কেট, এসএম মালেহ রোডের রিভার ভিউ কমপ্লেক্স, ফারজানা টাওয়ার, রিভার ভিউ কমপ্লেক্স, বিবি রোডের ডিআইটি মার্কেট, গুলশান মার্কেট, আজহার সুপার মার্কেট, মালেহ রোডের হাশেম ট্রেড সেন্টার, বিবি রোডের পানোরামা প্লাজা, সায়াম প্লাজা, কে এফ টাওয়ার, নয়ন সুপার মার্কেট, জলিল সুপার মার্কেট, গুলশান সিনেমা হল মার্কেট, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মার্কেট, নিউ জামির মার্কেট, এফ রহমান সুপার মার্কেট, ওয়ালী সুপার মার্কেট, দেওভোগের সোহরাওয়ার্দী মার্কেট, বিবি রোডের জনতা সুপার মার্কেট, রিয়াজ সুপার মার্কেট, করিম মার্কেট, জে এস সুপার মার্কেট, হাজী আব্দুল মোতালেব সুপার মার্কেট, হাকিম মার্কেট, বর্ষণ সুপার মার্কেট, স্বপ্ননীড় ফাতেমা পয়েন্ট, আলী আহমেদ চুনকা সড়কের শেরে বাংলা মার্কেট, বিবি রোডের গ্রীন সুপার মার্কেট, ডায়মন্ড সিনেমা হল মার্কেট, বিনোদন সুপার মার্কেট ও থানা পুকুরপাড় মসজিদ মার্কেট।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আইন অনুযায়ী মার্কেটের ছাদে ওঠার সিঁড়ির সংখ্যা বেশি থাকা, ছাদের দরজা খোলা রাখা, বহির্গমন দরজার সংখ্যা বেশি রাখা, আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভ ট্যাংক মজুদ (৫০ হাজার গ্যালন) রাখা, ১০ হাজার গ্যালনের ওভারহেড ওয়াটার ট্যাংক থাকা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক তারে কনসিল ওয়্যারিং থাকা, বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বক্স ও ডিমান্ড বক্স নিরাপদ অবস্থানে থাকা এবং প্রতি পয়েন্টে ৫ কেজি পরিমাণের সিওটু ফায়ার এক্সটিংগুইসার সংরক্ষণ করা, স্মোক ও হিট ডিটেক্টর রাখা এবং মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মীদের নিয়মিত অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা; কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব নিয়ম মানা হচ্ছে না।