বাংলাদেশে শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা চায় যুক্তরাজ্য। একটি স্পন্দমান নাগরিক সমাজ, প্রাণবন্ত বিতর্ক ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন যুক্তরাজ্যের প্রত্যাশা। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড গতকাল রবিবার ঢাকায় একথা বলেন। তিনদিনের সফরে শুক্রবার রাতে ঢাকায় আসেন এই ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী। ৩০ জানুয়ারি একাদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে টানা তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর এই প্রথম ব্রিটিশ সরকারের কোনো মন্ত্রী ঢাকা সফর করেন। সফরকালে মার্ক ফিল্ড গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের কয়েকজন সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি বৈঠক করনে।
ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী গতকাল বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন পিআরআই-এর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান মনসুর।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ও এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সঠিকভাবে অগ্রসর হোক। এজন্য সজাগ ও মুক্ত গণমাধ্যম অপরিহার্য। বাংলাদেশ ২০২১ সালে অর্ধশতক পূরণ করবে। দেশটির যে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে তা পরবর্তী অর্ধশতকে পূরণ করতে হবে। প্রথম অর্ধশতকে বাংলাদেশের উদযাপন করার মতো অনেক অর্জন রয়েছে। ৫০ মিলিয়ন লোককে অতি দরিদ্র পর্যায় থেকে বের করা, গড় আয়ু বৃদ্ধি, শিশু মৃত্যু হার কমানো, পৃথিবীর অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়ক ভূমিকা স্মরণ রেখে সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবে যুক্তরাজ্য।
মার্ক ফিল্ড বলেন, বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসাবে যুক্তরাজ্য চায় গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের অভিযোগগুলো দ্রুত, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ উপায়ে নিষ্পত্তি হোক। তখনই বলেছি নির্বাচনটি আন্তর্জাতিক মানসম্মত হয়নি।
