বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় গরুর অন্যতম খাদ্য খড়ের দাম বাড়ছে হু হু করে। বর্তমানের উপজেলায় লাগামহীন খড়ের বাজারে প্রতি ভ্যান খড় বিক্রি হচ্ছে ১৩শ থেকে ১৪শ টাকায়। এতে করে বিপাকে পড়েছে খামারি ও গৃহস্থরা।
অনেক ভ্যান চালক রাস্তায় ভ্যান চালানো বাদ দিয়ে নতুন করে খড়ের ব্যবসা শুরু করেছে। ইতিপূর্বে খড়ের বাজার এমন লাগামহীন হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
এখনও আমন ধান ঘরে উঠতে দুই মাস বাকি। ঘন ঘন বৃষ্টি ও বন্যার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে সবুজ ঘাস ও মজুদকৃত খড়।
দলগাছা গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আগে ধান মাড়ায়ের জন্য কোন যন্ত্র ছিল না। বর্তমানে ধান মাড়ায়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে গো খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। কারণ মেশিনে ধান মাড়াই করলে অধিকাংশ খড় নষ্ট হয়ে যায়।
আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার অনেকাংশে এজন্য দায়ী। গো-খাদ্যের তীব্র সংকট ও দাম লাগামহীন হওয়ায় অনেক খামারি ও কৃষক গরুপালনের প্রতি অনীহা প্রকাশ করেছেন।
খামারি রেজাউল জানান, বর্তমানের বিভিন্ন স্থান থেকে খড় ব্যবসায়ীরা ভ্যানে করে খড় বোঝাই করে নন্দীগ্রাম বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে নিয়ে আসে। আমি শিমলা বাজার থেকে ১৩শ টাকা দরে এক ভ্যান খড় কিনে এনেছি।
খড় ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম জানান, আমরা কয়েকজন মিলে বিভিন্ন গ্রাম থেকে খড়ের পালা কিনে তা বিভিন্ন বাজারে ভ্যানে করে বিক্রয় করি। এক ভ্যান খড় কিনতে আমাদের অনুমানিক ১১শ টাকা খরচ হয়। আমরা তা ১৩শ থেকে ১৪শ টাকায় বিক্রি করছি।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডাঃ শফিউল আলম জানান, ঘন ঘন বৃষ্টি ও বন্যার কারণে গো খাদ্যের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তবে এটা সাময়িক, আমরা প্রকল্পের মাধ্যমে ঘাস আবাদ বৃদ্ধির চেষ্টা করছি।
ইত্তেফাক/নূহু
