যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে বিধবা ধর্ষণের অভিযোগ, গর্ভপাত!

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২০:২৭
 
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে এক বিধবাকে বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ এবং গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে গর্ভপাতে রক্তক্ষরণের কারণে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ওই বিধবা। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে এ তথ্য পাওয়া যায়।
 
ওই বিধবার স্বামী সাত বছর আগে মারা যান। এ সুযোগে সহযোগিতার কথা বলে ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল হোসেন তিন বছর আগে ওই বিধবার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
 
বিভিন্ন সময়ে অবৈধ মেলামেশা করায় ওই বিধবা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। তিনি বিয়ের জন্য চাপ দিলে বাবুল তাকে গর্ভপাত ঘটানোর  শর্ত দেন। ঢোলারহাট এলাকার এক গ্রাম্যধাত্রী সোমবার বিধবার  পাঁচমাসের গর্ভের ভ্রুন গর্ভপাত ঘটান।
 
এতে ওই বিধবার  রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
 
ইউপি চেয়ারম্যান সীমান্ত কুমার বর্মন ওরফে নির্মল রাতে ওই বিধবাকে দেখতে হাসপাতালে যান। তিনি গর্ভপাতের শিকার ওই বিধবার খোঁজ-খবর নেন।
 
ইউপি চেয়ারম্যান নির্মল বলেন, ধর্ষিত বিধবা তার ইউনিয়নের এলজিইডির রাস্তা তদারকি এলসিএস কর্মী। তার সঙ্গে কোনোরূপ অনাচার হয়ে থাকলে তিনি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
 
নির্যাতিতা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা বাবুল বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘ তিন বছর ধরে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। সর্বশেষ তার গর্ভ পরীক্ষা করার নাম করে গর্ভপাত ঘটানো হয়।
 
এ ব্যাপারে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, যুবলীগের নাম ভেঙে কেউ কোনো অপকর্ম করে থাকলে যুবলীগ তার দায়-দায়িত্ব নেবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে যুবলীগের কোনো আপত্তি থাকবে না।
 
রুহিয়া থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায় জানান, ঢোলারহাট ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা বাবুলের বিরুদ্ধে এক বিধবার গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ তিনি শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে মামলা রুজু করা হবে।
 
এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা বাবুল গা-ঢাকা দিয়েছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
 
 
ইত্তেফাক/আরকেজি