পূজায় আনসার সদস্যদের ১৬০০ টাকার কাজ পেতে ৫০০ টাকা ঘুষ!

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৭, ১৮:১৯
খুলনায় আনসার সদস্যদের দুর্গাপূজার ডিউটি পালনে সম্মানী বাবদ ১৬০০ টাকা নিতে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম ঘুষ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামে আনসার কমান্ডাররা এ টাকা সংগ্রহ করেছেন বলেও অভিযোগে জানা গেছে।
 
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী আনসার সদস্যরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কর্মকর্তারাও এ ধরনের অভিযোগ শুনেছেন বলে স্বীকার করলেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্গাপূজার নিরাপত্তার জন্য লাঠি হাতে আনসার সদস্যরা একটানা ৫ দিন বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে দায়িত্ব পালন করেন। এ জন্য কমান্ডাররা বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের নিয়োগ দিয়ে থাকেন। আর এ নিয়োগেই হয়েছে অর্থ বাণিজ্য।
 
সূত্র জানায়, দিঘলিয়া উপজেলায় ৫৬টি মণ্ডপে দুর্গ পূজার ডিউটির জন্য নারী-পুরুষ মিলে ২৯৬ জন আনসার সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়। এ নিয়োগ পেতে জনপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম ঘুষ দিতে হয়েছে। আর যারা চাহিদামত টাকা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের নিয়োগ দেয়া হয়নি।
 
ঘুষ দিয়ে নিয়োগ পাওয়া রোকসানা বেগম, রাজিয়া বেগম, নাসরিন বেগম, ফিরোজা বেগম, ফরিদা বেগম ও লাভলু শেখসহ একাধিক আনসার সদস্য এ বিষয়ে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, উপজেলা আনসার ইনচার্জ নূরুন্নেছা খানম এবং আনসার কমান্ডাররা নিয়োগ পাওয়ার শর্ত হিসেবে তাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছেন।
 
তবে উপজেলা আনসার ইনচার্জ নূরুন্নেছা খানম নিজে কারও কাছ থেকে টাকা নেননি দাবি করে বলেন, আনসার কমান্ডার ইলিয়াছ শরীফসহ কয়েকজন কমান্ডার টাকা নিয়েছেন বলে শুনেছেন তিনি। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
 
জেলা আনসার কমান্ডেন্ট শেখ মনিরুজ্জামান বলেন, নিয়োগ পেতে অর্থ নেয়ার কোন সুযোগ নেই। এ ধরনের লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে একই অভিযোগ ডুমুরিয়া উপজেলা থেকেও পাওয়া গেছে।
 
উল্লেখ্য, এবার খুলনার ৯৪৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে মহানগরী এলাকায় ২২১টি। এছাড়া ডুমুরিয়া উপজেলায় ১৯৪টি, পাইকগাছা উপজেলায় ১৪৩টি, বটিয়াঘাটা উপজেলায় ১০৬টি, তেরখাদা উপজেলায় ৯৪টি, দাকোপ ও রূপসা উপজেলায় ৭৩টি করে, দিঘলিয়া উপজেলায় ৫৯টি, কয়রা উপজেলায় ৫০টি এবং ফুলতলা উপজেলায় ৩০টি। প্রায় ৬ হাজার আনসার সদস্য এসব মন্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে সাধারণ মণ্ডপে ২ জন পুরুষ, ২ জন মহিলা, গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে ২ জন মহিলা, ৪ জন পুরুষ, অধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপে ২ জন মহিলা ও ৬ জন পুরুষ দায়িত্ব পালন করেন।
 

ইত্তেফাক/এএম।