উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া গ্রামের প্রবেশ সাংমা নামে এক অসহায় গারো পরিবার উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে জানা গেছে, প্রতিপক্ষের হুমকি ও নানা ষড়যন্ত্র আর মিথ্যা মামলার বেড়াজালে ওই পরিবারের মাঝে এ আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আতঙ্কগ্রস্ত পরিবার প্রধান প্রবেশ সাংমা ও তার স্ত্রী মার্টিনা চাম্বু গং জানান, গত ৫ যুগ পূর্বে ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত ৪০ শতাংশ জমির একাংশে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস এবং বাকি অংশ জমি চাষাবাদ করে উত্পাদিত ফসলে পরিবারের সদস্যদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ওই জমিটুকুই এ পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু জমির প্রতি লোভ জাগে স্থানীয় একটি কু-চক্রী মহলের। ওই মহলের প্ররোচনায় একই গ্রামের সুরভী সাংমা প্রবেশ সাংমাকে বাড়ি ও জমি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশে গত ২ বছর যাবত প্রবেশ সাংমা ও তার পরিবারের অন্যান্যদের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন।
পূর্ব গজারীকুড়া গ্রামের আদিবাসী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মিষ্টার ললেন সাংমা জানান, ২০১৬ সালের ১২ জুলাই সুরভী সাংমা জালিয়াতির মাধ্যমে শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই জমির উপর একটি নিষেধাজ্ঞা মোকদ্দমা দায়ের করেন। উক্ত মোকদ্দমার প্রেক্ষিতে আদালত ওই জমির দখল বিষয়ে জানতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে নির্দেশ দেন। উক্ত নির্দেশ বলে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার (ভূমি) ইউএনও সেলিম রেজা প্রবেশ সাংমার দখলীয় জমি ও বসতবাড়ী সুরভী সাংমার দখলে আছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনের আলোকে আদালত প্রবেশ সাংমার বসতবাড়ির উপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। বর্তমানে আদালতের নিষেধাজ্ঞার খড়গ মাথায় নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করে আসলেও জমি হারানোর ভয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। এছাড়া বাড়ি উচ্ছেদ করতে তাকে দেয়া হচ্ছে হুমকি ও তার বিরুদ্ধে চলছে নানা ষড়যন্ত্র। ফলে ওই পরিবারটি আতঙ্কগ্রস্ত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এর প্রতিকারের জন্য প্রশানের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন নিবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি। ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মি. নবেস খকসি এর সত্যতা স্বীকার করে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দাজ্ঞাপন করেছেন।
ইত্তেফাক/এএম।
