একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ টাঙ্গাইলে

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৭, ০১:৪৭

টাঙ্গাইলে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক দলগুলো এখন সক্রিয়। বিশেষ করে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের সিনিয়র নেতাদের আস্থা অর্জন করতে এবং অন্য নেতাকর্মীদের সমর্থন পেতে মাঠে নেমেছেন। কেন্দ্রেও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অনেকেই। বৃহত্ দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে প্রায় প্রতিটি আসনে একাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এ লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজও শুরু করেছেন। শুভেচ্ছা বিনিময় থেকে শুরু করে মতবিনিময়, সভা-সমাবেশ করছেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা ও দলীয় প্রধানের ছবির সঙ্গে নিজের ছবি সংবলিত পোস্টার-ব্যানারও টানিয়েছেন কেউ কেউ।

জেলায় ১২টি উপজেলা নিয়ে আটটি সংসদীয় আসন রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অনেককেই মাঠে দেখা যাচ্ছে। বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যসহ বেশ কিছু নতুন মুখ এরই মধ্যে নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন।       যদি জোটগত নির্বাচন হয় সে ক্ষেত্রেও টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়া দুই জোটের অন্য কোনো দলের প্রার্থীরই মনোনয়ন পাওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। বর্তমান সংসদে টাঙ্গাইলের আটটি আসনের এমপিই আওয়ামী লীগ দলীয়। অবশ্য আগামী নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে জাতীয় পার্টির (জেপির) কেন্দ্রীয় নির্বাহী সম্পাদক সাদেক সিদ্দিকী জোটের মনোনয়ন পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন।

জেলার সংসদীয় রাজনীতিতে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের নির্বাচন সবসময়ই গুরুত্ব পেয়েছে। কালিহাতীর রাজনীতিতে দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী স্বাধীনতার ইস্তেহার পাঠকারী শাজাহান সিরাজ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। শাজাহান সিরাজ টাঙ্গাইল-৪ আসনে জাসদের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনবার ও বিএনপির টিকিটে দুইবার এমপি হয়েছেন। তিনি বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। তবে শাজাহান সিরাজ অসুস্থ হয়ে রাজনীতি থেকে দূরে সরে পড়ার কারণে এবং লতিফ সিদ্দিকীও আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকতে না পেরে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ায় এই গুরুত্ব এখন কমে গেছে। আর এ কারণে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলেই এবার প্রার্থীর ছড়াছড়ি।

টাঙ্গাইল-৫ আসনের এক সময়ের এমপি প্রবীণ রাজনীতিক আব্দুল মান্নান ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এবং বঙ্গবন্ধু সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর স্নেহভাজন আব্দুর রহমান বিএনপির টিকিটে এই আসনের এমপি হয়ে ধর্মমন্ত্রী হয়েছিলেন। বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব) মাহমুদুল হাসান এই আসনে মোট চারবার এমপি হয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে দুইবার এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দুইবার। তিনি জাতীয় পার্টি সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন।

ইত্তেফাক/নূহু