মুহাম্মদ কামালুদ্দিন, লামা (বান্দরবান) সংবাদদাতা
লামা বন বিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম। ভবনের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ফাটল ধরেছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এ ছাড়া বন বিভাগের ৯টি সরকারি আবাসিক ও অনাবাসিক পাকা ও আধা পাকা এবং ব্যারাকগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৯৮৬ সালে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়। লামা বন বিভাগের অধীনে রয়েছে তিনটি উপজেলার ছয়টি রেঞ্জ। লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বনজ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় রয়েছে লামা, ডলুছড়ি, তৈন, মাতামুহুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি ও সাঙ্গু রেঞ্জ। সাম্প্রতিক কয়েকটি ভূমিকম্পের ফলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার ভবনের ওয়ালসমূহে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনের দেয়ালের ও ছাদের প্লাস্টার ভেঙে নিচে পড়ছে। এ ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত ভূমিকম্পন হওয়ায় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার ভবন, কর্মচারীদের বাস ভবনগুলো ফাটল ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। লামা বন বিভাগের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসমূহ অবলোপন করে নতুন ভবন নির্মাণ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে আরো জানা গেছে, ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তার বাস ভবনসহ ফরেস্টারের বাস ভবন, কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার, দ্বৈত বাগান মালির ব্যারাক, তৈন রেঞ্জের অস্থায়ী ব্যারাক, মাতামুহুরী রেঞ্জের দ্বৈত বন প্রহরীর বাস ভবন ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। এ সকল অফিস ও আবাসিক কোয়ার্টারসমূহ ১৯৮৫ হতে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নির্মাণ করা হয়।
লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা ও ব্যবহার অনুপযোগীর বিষয়টি বন অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন সংরক্ষকের নেতৃত্বে পুরাতন ভবনসমূহ অবলোপনের একটি কমিটি রয়েছে। লামা বন বিভাগের জরাজীর্ণ দুইটি পাকা, চারটি আধা পাকা ও দুইটি কাঁচা আবাসিক ভবন অবলোপন ঘোষণার জন্য নিয়ম অনুযায়ী গণপূর্ত বিভাগকে পত্র দিয়ে জানানো হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগ প্রতিবেদন দাখিল করলে মন্ত্রণালয়ে ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করা হবে।
