বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে আদায়কৃত ভর্তি ফি, উন্নয়ন ফি, বেতন ও অন্যান্য ফি’র ৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যাংক একাউন্টে জমা না দিয়ে প্রধান শিক্ষক আত্মসাত্ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বিনয় কৃষ্ণ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে।
জানা গেছে, বিনয় কৃষ্ণ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস বিগত চার বছর ধরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে কোনো প্রকার হিসাব-নিকাশ না দিয়ে নিজের খেয়াল খুশি মতো বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত জুন মাসের শুরুতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় কমিটির সদস্য চিত্ত রঞ্জন ওঝা, দেবাশীষ রায় ও শিক্ষক গোবিন্দ বিশ্বাসকে নিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট অডিট কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি মাসব্যাপী হিসাব-নিকাশ করেন। ৩ জুলাই অডিট কমিটি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছে তাদের হিসাব প্রতিবেদন জমা দেন।
হিসাব প্রতিবেদনে ৫ লাখ ২৭ হাজার টাকার গড়মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন অডিট কমিটির সদস্য চিত্ত রঞ্জন ওঝা। তিনি বলেন, আমরা ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছরের জুন মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত হিসাব করেছি। তাতে উল্লেখিত টাকা আমরা গড়মিল পেয়েছি। প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস এই মোটা অংকের টাকা বিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা না দিয়ে নিজের পকেট ভারী করেছেন বলে আমার ধারণা।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চলতি মাসের ২০ তারিখে ঢাকার একটি সিএ ফার্ম দিয়ে আমি অডিট করাবো। আশা করি এ অডিটের পরে হিসাবে কোনো গড়মিল থাকবে না।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাইকেল ওঝা বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫ লক্ষাধিক টাকার গড়মিল পাওয়া গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে আবার একটি হিসাব করা হবে। এই হিসাবে যদি গড়মিল পাওয়া যায় তাহলে প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এএম।
