ছন্দপতন কাটিয়ে বিশ্বকাপে নজর টাইগারদের

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪৭

দুয়ারে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ৩০ মে ইংল্যান্ডের মাটিতে শুরু হবে বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর। এ নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট কর্তাদের ব্যস্ততার শেষ নেই। ক্রিকেট পাগল জাতিকে ভালো ফল উপহার দিতে নানা প্রচেষ্টা তাদের। তবে এই প্রচেষ্টার মাঝেও কর্তাব্যক্তিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, কয়েকজন ক্রিকেটারের ইনজুরি এসব মাথায় নিয়ে এগুচ্ছেন তারা। চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স আহামরি নয়। এর মধ্যেই ১৮ এপ্রিল দল ঘোষণা হবে। ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি।

ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নিউজিল্যান্ড সফরে অতীতের মতোই কিউইদের কাছে পাত্তা পায়নি সফরকারীরা। পেস, বাউন্সি কন্ডিশনেও বোলার-ব্যাটসম্যানরা নিষ্প্রভ ছিলেন। ইংল্যান্ডে প্রায় নিউজিল্যান্ডের মতো কন্ডিশনে বিশ্বকাপ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডের ব্যর্থতাও তাই চিন্তার কারণ টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য। দলে রয়েছে কম বেশি ইনজুরির ধাক্কা। দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আইপিএলে গিয়ে সাইড বেঞ্চে সময় কাটাচ্ছেন। তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ঢাকা প্রিমিয়ার লিগই খেলছেন না। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপের মতো বড় অ্যাসাইনমেন্টে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ দলের সবকিছু যেন ঠিকঠাক চলছে না। 

তবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী কথাবার্তা শোনালেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। প্রধান নির্বাচককে আশা জোগাচ্ছে ইংল্যান্ডের মাটিতে টাইগারদের অতীত সাফল্য। তিনি ভরসা করছেন পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটার অধিনায়ক মাশরাফি, নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহদের ওপর। পাশাপাশি মুস্তাফিজ, সাব্বির, সৌম্য, লিটন দাসরা জ্বলে উঠবেন বলে আশা করছেন তিনি। বিশ্বকাপ দল নিয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে প্রায়শই সভা করছেন নির্বাচকরা।

মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, নিউজিল্যান্ড সফরের ব্যর্থতা প্রভাব ফেলবে না বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে। ‘দুই জায়গাতে কন্ডিশনে একটু ভিন্নতা আছেই। নিউজিল্যান্ডে আমরা আগেও ভালো করিনি। এটা এখন আর ভেবে লাভ নেই। কিন্তু ইংল্যান্ডের মাটিতে আমাদের অর্জন আছে। আমরা ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ওখানে ভালো খেলেছি। তখন সুযোগ-সুবিধা তেমন ছিল না। দুই বছর আগে ইংল্যান্ডে গত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলেছি আমরা। আমাদের প্লেয়ারও খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। সেদিক থেকে আমরা আশাবাদী, এবার আমরা এই টুর্নামেন্টে ভালো করব।’

মিরপুরে ২২ থেকে ২৯ এপ্রিল চলবে বিশ্বকাপের ক্যাম্প। ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আগামী  পহেলা মে দেশ ছাড়বে টাইগাররা। ১৭ মে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ হবে। তারপর ৫ দিন আয়ারল্যান্ডেই অনুশীলন করবে বাংলাদেশ। পরে ২২ মে ইংল্যান্ডে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কার্যত তখনই বিশ্বকাপের আবহে ঢুকে যাবেন তামিম-সাকিবরা। বিশ্বকাপের আগে এই প্রস্তুতিকে যথেষ্ট মনে করছেন প্রধান নির্বাচক। তিনি বলেন, বিশ্বকাপে নামার আগে সাতটি ম্যাচ খেলবে দল। আর প্র্যাকটিস ম্যাচ তো আছেই। 

এদিকে বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরীর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের সম্ভাব্য স্কোয়াডের দুজন ক্রিকেটার এখন চোটে রয়েছেন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কাঁধের ইনজুরি ও রুবেল হোসেনের সাইড স্ট্রেইন তথা পিঠের পেশীতে টান পড়েছে। নিউজিল্যান্ড থেকেই বয়ে আনা কাঁধের ব্যথার উন্নতি হতে শুরু করেছে মাহমুদউল্লাহর। ইতোমধ্যে ব্যাটিং শুরু করে দিয়েছেন তিনি। এই ব্যথা সামাল দিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন তিনি। সাইড স্ট্রেইনের চোটে পড়া রুবেলকে এক সপ্তাহের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বিপিএলে পাওয়া ইনজুরি কাটিয়ে শর্ট রানআপে বোলিং করছেন তাসকিন আহমেদ।

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে টাইগারদের পথচলা

১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয় বাংলাদেশের। প্রথম অংশগ্রহণেই পাকিস্তানকে হারিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ দল। এরপর থেকে কয়েকটা আসর আর সেভাবে ছাপ রাখতে পারেনি তারা। ২০০৭ সালে এসে নিজেদের ইতিহাসের সেরা পারফরম্যান্স করে বাংলাদেশ দল। ভারতকে হারিয়ে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন দল চলে যায় সুপার সিক্সে। সুপার সিক্সেও হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ তখনকার র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ২০১১ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ঘরের মাটিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল। কিন্তু দুটি ম্যাচে খুব অল্প রানে অলআউট হওয়ায় সে সাফল্য ম্লান হয়ে যায়। এরপর গত আসর—২০১৫ বিশ্বকাপ। এটা ছিল বাংলাদেশের সেরা পারফরম্যান্স। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ চলে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। সেখানে ভারতের বিপক্ষে বহুল বিতর্কিত এক ম্যাচে হেরেছিল বাংলাদেশ।