ক্ষমতায় এলে অবিলম্বে রাম মন্দির নির্মাণ

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৫৩

বিজেপি আবারো ক্ষমতায় গেলে অবিলম্বে রাম মন্দির নির্মাণ করবে। একইসঙ্গে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে পদক্ষেপ নেবে দলটি। গতকাল সোমবার প্রকাশ করা নির্বাচনী ইশতেহারে এসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল। নয়াদিল্লিতে বিজেপির কার্যালয়ে ইশতেহার প্রকাশের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ‘সংকল্প পত্র’ নামের ইশতেহারে জাতীয়তাবাদ, সুশাসনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে বিজেপি’র ইশতেহারকে ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের ‘কপি-পেস্ট’ বলে মন্তব্য করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী গতকালও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি একজন মিথ্যাবাদী, লুটেরা। কাজের কাজ না করে বকবক করেন।

আগামী বৃহস্পতিবার ভারতের লোকসভা নির্বাচনে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হবে। এই নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখেছে বিজেপি। রাম মন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি এবারও দিয়েছে দলটি। ইশতেহারে সেনাবাহিনীকে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত করা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। এছাড়া অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার ও ২০২২ সালের মধ্যে সবার জন্য বাড়ি তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ইশতেহার প্রকাশ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, গত ৫৫ বছরে যে কাজ করা সম্ভব হয়নি গত ৫ বছরে তা সম্ভব হয়েছে। বিজেপি সরকার গরিবের ক্ষমতায়নে কাজ করছে। ২০২২ সালে ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর উপলক্ষে ৭৫টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সুশাসন আমাদের মন্ত্রণা এবং জাতীয়তাবাদ আমাদের প্রেরণা। ভারত একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এগিয়ে  যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, সৌহার্দ্যের বাতাবরণে তৈরি করা হবে রাম মন্দির। অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে আইন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাস করে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক ঘরে শৌচালয়, বিদ্যুত এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ বলেন, দ্রুততম অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারত বিশ্বের পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। 

অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, কর থেকে আমজনতাকে মুক্তি দিয়ে ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। কৃষকদের পেনশন দেওয়া হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, কংগ্রেসের ইশতেহারে দেশদ্রোহীরা’ ইন্ধন পাচ্ছে, আর আমাদের সংকল্প পত্রে সন্ত্রাসবাদ সমূলে উত্খাতের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বিজেপির ইশতেহারের সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা আহমেদ প্যাটেল বলেছেন, এটা ২০১৪ সালের বিজেপির ইশতেহারেরই কপি-পেস্ট। শুধু আগের সময়সীমাগুলোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিজেপির ইশতেহার না দিয়ে ‘ক্ষমা প্রার্থনা পত্র’ দেওয়া উচিত ছিল।  

বিজেপির ইশতেহার ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নাগরাকাটায় এক জনসভায় বলেন,

পাঁচ বছর ধরে দামি জামা-কাপড় পরে শুধু বিদেশ ঘুরেছেন মোদী। বিজেপি ক্ষমতায় গেলে ভারতে স্বাধীনতা বলে আর কিছু থাকবে না। দেশে এখন ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী সরকার চলছে। গোরক্ষার নামে তাণ্ডব চালাচ্ছে আরএসএস। যারা গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করতে চায়, তাদের আপনারা স্তব্ধ করে দিন। এদিকে, বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মেদিনীপুরে বলেছেন, ?মমতা ব্যানার্জি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলে কাশ্মীর পাকিস্তানে চলে যাবে।