সিরাজদিখানে পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৪৭

১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে প্রায় ১০ বছর আগে। বর্তমানে কক্ষের অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে পাঠদান। বিভিন্ন সময়ে পরিত্যক্ত ভবনের ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে এ পর্যন্ত ১২ জন ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়েছে। বর্তমানে ভয়ে অনেক ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। তারপরও মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার গুয়াখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন তৈরি হচ্ছে না।

পরিত্যক্ত বিদ্যালয়টিতে অত্যন্ত স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ। মেঝেতে উঁচু-নিচু গর্ত, ছাদের প্লাস্টার খসে রড বের হয়ে মরিচা পড়ে সরু হয়ে গেছে। জানালা-দরজা ভাঙা। পিলার ও ওয়ালে বড় বড় ফাটল, বৃষ্টি হলে ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। পরিত্যক্ত মূল ভবনের পাশে ২ কক্ষের একটি নতুন ভবন তৈরি হয়েছে ৫/৬ বছর আগে। কিন্তু বিদ্যালয়ের ঐ ২ কক্ষে ৬টি ক্লাসের ২৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীর পড়ালেখা কোনোভাবেই সম্ভব হয় না। অধিকাংশ সময় দুই কক্ষ বিশিষ্ট ভবনটিতে একশ্রেণি কক্ষের ভেতর দুই ক্লাস নেওয়া হয়। ৪২ জন ছাত্র-ছাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এক রুমে যখন দুই ক্লাসের ৯০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থী বসে তখন শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হয়। এ পরিবেশে কেবল হৈচৈই হয়, লেখাপড়া হয় না। তাই শিক্ষকগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস নিতে বাধ্য হন। তবে বৃষ্টির সময় ছাদ চুঁয়ে পানি পড়ার কারণে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। আবার কোনো কোনো সময় শিক্ষার্থীদের গাছের তলায়ও ক্লাস করতে দেখা যায়। বিদ্যালয়টির পড়াশুনার মান আগে ভাল থাকলেও বর্তমানে ভবনের সমস্যার কারণে ফলাফল খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে জানান বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সামসুজ্জামান পনির।

তিনি আরো জানান, বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের জন্য বিগত ১০ বছরে কর্তৃপক্ষের নিকট অনেকবারই আবেদন জানানো হয়েছে। ভবনের দূরবস্থার চিত্র বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে একাধিকবার প্রচারিতও হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে এর সত্যতাও পেয়েছেন। তারপরও রহস্যজনক কারণে নতুন ভবন হচ্ছে না। অথচ উপজেলার অনেক বিদ্যালয় আছে যেখানে এই বিদ্যালয়ের চেয়ে ছাত্র-ছাত্রী কম সেখানেও নতুন ভবন তৈরি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমানুল্লাহ মাষ্টার জানান, শুধু ছাত্র-ছাত্রীই নয়, ৭ জন শিক্ষকের বসার জন্য ও অফিসের কাজের জন্যও কোনো রুম নেই।

এ ব্যাপারে সিরাজদিখান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে এর দূরবস্থার প্রমাণ পেয়েছি। সেখানে একটি নতুন ভবন অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বরাদ্দ না পেলে আমার কিছু করার নেই।