একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

রাঙ্গামাটি আসনে আঞ্চলিক দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৭, ০১:৪২

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে রাঙ্গামাটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়-ঝাঁপ বেড়ে চলেছে। কে হবে এবারের এমপি এ নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। জাতীয় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী জয়ের মালা পরবে না আবারো আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল থেকে এমপি হবেন এই নিয়ে চলছে মাতামতি। এবারের রাঙ্গামাটি ২৯৯ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) ও সচেতন নাগরিক কমিটির প্রার্থীরা। তবে লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে।

দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় তিন পার্বত্য জেলার চিত্র হচ্ছে ভিন্ন। এ তিন জেলায় জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি রয়েছে শক্তিশালী আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের প্রভাব। এই কারণে রাঙ্গামাটি জেলার নির্বাচনে জয় পরাজয় নির্ভর করছে স্থানীয় রাজনীতির ওপর। জাতীয় রাজনীতির ধারাবাহিকতায় আগামী নির্বাচনকে নিজেদের দলের পক্ষে নিতে চাইলেও আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর  তৃণমূল পর্যায়ে পেশী শক্তি ও অস্ত্রের ঝনঝনানিতে সাধারণ ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারে না বলেও অভিযোগ জাতীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের।

তারপরও জাতীয় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস ও ইউপিডিএফ কারো চেয়ে কেউ কম নয়। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দেয় তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি প্রার্থী হবে ডামি প্রার্থী। জেএসএস প্রার্থী দিলেও কাজ করবে নাগরিক কমিটির প্রার্থীর পক্ষে। তবে সকলেই নিজ নিজ দলের পক্ষ থেকে জয়ের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। তবে নির্বাচনে জয় পরাজয়ের মোড় পাল্টে দিতে ক্ষমতা রাখে অন্য আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ, জেএসএস এমএন লারমা। এই দুটি গ্রুপের রাঙ্গামাটিতে প্রার্থী না দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে এই দুই দল কার পক্ষে কাজ করবে তা এখনো বোঝার উপায় নেই। শেষ মুহূর্তে এই দুটি দল রাঙ্গামাটি আসনে জয় পরাজয়ে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞমহল।

অপরদিকে পাহাড়ের আরো একটি বড় সমস্যা হচ্ছে পাহাড়ি-বাঙালি বিভেদ। পাহাড়ি বাঙালি বিভেদ করে যদি পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙালিদের আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য বাঙালি সংগঠন সমঅধিকার আন্দোলন প্রার্থী দেয় তাহলে ভোটের সমীকরণ সহজ হবে জেএসএস এর পক্ষে।

ইত্তেফাক/নূহু