মাছ ধরা বন্ধের জন্য নদীতে চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। তারপরও রাতের আঁধারে পদ্মা নদীতে চলছেই ইলিশ মাছ শিকার। শুরু থেকে এ পর্যন্ত রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক জেলেকে মা ইলিশ ও কারেন্ট জালসহ হাতে-নাতে ধরার পর জেলেদের জেল-জরিমানাও করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জেল-জরিমানা উপেক্ষা করেও চলছে ইলিশ শিকার। দিনের বেলায় প্রশাসনের কড়া নজরদারি থাকায় রাতের আঁধারে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদে পদ্মায় চলছে মাছ ধরার মহোৎসব। মাছ ধরা শেষ হলে নদীর মাঝে থেকেই মুঠোফোনে যোগাযোগ করেই ক্রেতার নিকট পৌঁছানো হচ্ছে মাছ। জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ করতে রাতে নদীতে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। তবে জেলেদের অভিযোগ, সরকারের বরাদ্দ দেওয়া খাদ্য সহায়তার না পেয়ে পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য জেল-জরিমানা ও পুলিশি হয়রানি উপক্ষো করে বাধ্য হয়েই নদীতে মাছ ধরতে নামছে তারা।
সরকারি তালিকাভুক্ত জেলে মজিবর রহমান, তোয়েবুরসহ আরও অনেক জেলে জানান, তাদের সংসার চলে এই মাছ ধরার ওপর, তিন বছর আগে সরকার তাদের কার্ড দিয়েছে কিন্তু এখনও কোন সহায়তা পাননি। পরিবার পরিজন নিয়ে দুই বেলা ভাত খাওয়ার জন্য ও কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য বাধ্য হয়েই তার নদী থেকে মাছ ধরছে।
জেলেরা আরও বলেন, আমারা মাছ ধরার জন্য পুলিশের সাথে নৌকা প্রতি চুক্তি করার পরও পুলিশ মাঝে মধ্যে এসে জোর করে মণ মণ মাছ নিয়ে যায়। এছাড়াও এলাকার মক্কেল মাতবর, চেয়ারম্যান, মেম্বর তো আছেই। এতো কষ্ট করে নদী থেকে মাছ ধরলেও আমাদের কিছুই থাকে না। এরপরও জেল জরিমানা আমাদেরই।
উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরিফ জানান, ইলিশ রক্ষায় তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভিজিএফ এর বরাদ্ধ পেলে নিবন্ধিত জেলেদের সহায়তা দেওয়া হবে।
সহকারী কমিশনার ভূমি মো. রাশেদুজ্জামান জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা যেনো মাছ ধরতে না পারে সেজন্য তারা সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নদীতে অভিযান পরিচালনা করছেন। তাদের এ অভিযান আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। পুলিশের সাথে নৌকা প্রতি চুক্তি করার পরও পুলিশ মাঝে মধ্যে জেলেদের কাছ থেকে জোর করে মণ মণ মাছ নিয়ে আসার ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) মো. ফজলুল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ইত্তেফাক/জামান
