ইউনিসেফের প্রতিবেদন

‘প্রতিদিন পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশু মারা যায় ১৫ হাজার’

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৭, ১৮:৫১
বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন গড়ে ১৫ হাজার শিশু মারা যাচ্ছে যাদের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী পাঁচ বছরের নিচে এই শিশুদের ৪৬ ভাগ তাদের জন্মের এক মাসের মধ্যে মারা গেছে। ইউনিসেফ প্রকাশিত শিশু মৃত্যুর প্রবণতা ও হার নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, শিশু মৃত্যুর হার না কমলে ২০১৭ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময়কালে জন্ম গ্রহণের এক মাসের মধ্যে মারা যাবে তিন কোটি নবজাতক। 
 
‘লেভেল এন্ড ট্রেন্ড ইন চাইল্ড মর্টালিটি’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী শিশু মৃত্যুর হার কমে এসেছে। ২০১৬ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যু হার কমে ৫৬ লাখে নেমে এসেছে। ২০০০ সালেও এই সংখ্যা ৯৯ লাখ ছিল। তবে নবজাতকের শিশু মৃত্যু হার বেড়েছে। এসময়কালে ৪১ ভাগ থেকে ৪৬ ভাগে উঠে এসেছে নবজাতক মৃত্যুর হার। সে হিসাবে ২০০০ সালের পর ৫ কোটি শিশুর জীবন রক্ষা পেয়েছে। 
 
ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান স্টিফেন সোয়ার্টলিং উল্লেখ করেছেন, শিশু মৃত্যুহার রক্ষায় সরকারি প্রতিশ্রুতি, উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা এই অগ্রগতির ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু নবজাতকের মৃত্যু হার বন্ধ করতে না পারলে এই অর্জন পরিপূর্ণ হতে পারবে না। শিশু মৃত্যুহারের যে প্রবণতা তাতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ৬ কোটি শিশু তাদের পঞ্চম জন্ম দিবস পেরুতে পারবে না।
 
ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশ্বব্যাংক এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছে। প্রতিবেদন অনুুযায়ী বাংলাদেশের শিশু মৃত্যুর হার প্রতিবেশি অন্যান্য দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা প্রতি হাজারে ১৪৪ থেকে ২০১৬ সালে ৩৪ এ নেমে এসেছে। ভারতে এই হার ১২৬ থেকে ৪৩ এ নেমেছে। পাকিস্তানে ১৩৪ থেকে ৭৯ এ নেমে এসেছে। নেপালে ১৪৪ থেকে ৪৫ এ নেমে এসেছে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার ২১ থেকে ৯ এ নেমে এসেছে।
নবজাতক মৃত্যুর বড় অঞ্চল হলো দক্ষিণ এশিয়ার (৩৯ ভাগ) এবং সাব সাহারান আফ্রিকা (৩৮ ভাগ)। বিশ্বে যত নবজাতক মৃত্যুবরণ করে তার অর্ধেক মাত্র পাঁচটি দেশকে ঘিরে। এগুলো হলো ভারত (২৪%), পাকিস্তান (১০%), নাইজেরিয়া (৯%), কঙ্গো (৪%) এবং ইথিওপিয়া (৩%)। 
 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহকারি মহাপরিচালক ফ্লেভিয়া বাস্তিরো উল্লেখ করেছেন, নবজাতক মৃত্যুর হার কমাতে পরিবারগুলোর স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রয়োজন। এজন্য তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করাও প্রয়োজন। নবজাতকের সময়মতো দেখাশুনা করতে হয়। এজন্য সময়উপযোগী সেবা দেওয়াও প্রয়োজন। 
 
ইত্তেফাক/এমআই