মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ, হবিগঞ্জ এবং পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে নদীর পানি বেড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে অবিরাম বৃষ্টিতে ভারতের পাহাড়ী পানি নিচের দিকে নামতে থাকায় মুহুরী নদীর পানি সকাল থেকে বিপদ সীমার দুই মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরশুরামে কহুয়া নদীর বাঁধের ৪ স্থানে ভাঙনে ৮টি গ্রাম এবং ফুলগাজীর মুহুরী নদীর বাঁধের ২ স্থনে ভাঙনের কারণে ২টি গ্রাম এবং সিলোনিয়া নদীর বাঁধের ২টি স্থানে ভাঙনের কারণে ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিতে জলবদ্ধতার কারণে বন্ধ রয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে নিম্ন এলাকার সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
কুলাউড়া সংবাদদাতা জানান, ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার টিলাগাঁও, শরীফপুর ইউনিয়নের লালবাগ ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় গত শনিবার মনু নদীর রক্ষা বাঁধের ভাঙন দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে। ইউনিয়ন দু’টির প্রায় দশ হাজার একর থোড় আসা আমন ধান ক্ষেত তলিয়ে গেছে।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হঠাত্ করেই বেড়েছে স্থানীয় খোয়াই নদীর পানি। কয়েকদিনের টানা বর্ষণের ফলে এ পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শনিবার জেলা শহরে নদীর পানি বিপদসীমার ১৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ অবস্থায় শহররক্ষা বাঁধের অন্তত ৫টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কমলগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, তিন দিনের টানা বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের নতুন ও পুরাতন চারটি স্থানে ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। অন্তত ২০টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৫শ হেক্টরের আমন ফসল ও সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে। কমলগঞ্জ-আদমপুর সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
