বাগেরহাটের কচুয়ায় সরকারি রাস্তার গাছ শনাক্তকরণের কাজ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যানের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন জেলা পরিষদের কর্মকর্তাসহ পাঁচজন। উপজেলার সাইনবোর্ড এলাকার চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
তাদের উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার মো. ইমরান আলী, অফিস সহায়ক মো. রাকিবুল ইসলাম, কেয়ারটেকার রেজওয়ান উল হক হিমেল এবং খণ্ডকালীন দুই শ্রমিক আবুল হোসেন ও আলমগীর হোসেন। তবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ মাহফুজুর রহমান মাফুজ মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বাগেরহাট জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার মো. ইমরান আলী বলেন, সম্প্রতি বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার সাইনবোর্ড-কচুয়া সড়কটি প্রশস্তকরণের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সব গাছ কেটে নিতে চিঠি দেয়। এই কাজে সহযোগিতা করতে জেলা পরিষদ ওই সড়কের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে পরিষদের মালিকানাধীন গাছের পরিমান ও শনাক্তকরণের কাজ শুরু করি। এই খবর পেয়ে কচুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মাহফুজুর রহমান মাফুজ, তার ভাই ইমাম আলী ঘটনাস্থলে লোকজন নিয়ে এসে ওই সড়কের প্রায় ত্রিশটি মেহগনি গাছ নিজের জমিতে রয়েছে বলে দাবি করেন। তখন আমরা ওই এলাকায় কাজ বন্ধ করে সামনে এগিয়ে যাই। পরে তিনি সেখানে গিয়ে ওই গাছগুলো তার বলে দাবি করে আমাদের উপর চড়াও হয়ে প্রথমে চেয়ারম্যান নিজে আমাকে মারপিট শুরু করেন। পরে তার সঙ্গে থাকা ১৪/১৫ জন লোক লাঠিসোটা দিয়ে আমাদের সবাইকে মারধর করে। পরে চেয়ারম্যানের লোকজন আমাদের ঘিরে রাখেন। এক পর্যায়ে সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যাই। আমি বিষয়টি লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, উপজেলার সাইনবোর্ড ভায়া কচুয়া সদরের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটার সড়কটি ১৮ মিটার প্রশস্তকরণের কাজ হবে। এজন্য ১৫দিন আগে আমি জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ওই সড়কের সব গাছ কেটে নিতে পরিষদের প্রধান নির্বাহীকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। সরকারি এই কাজ করতে গিয়ে জেলা পরিষদের কর্মচারীরা মারধরের শিকার হওয়া ঘটনা দু:খজনক।
বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শৈলেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, নিরাপত্তার কারণে বর্তমানে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের মারধর করার ঘটনাটি খুবই দু:খজনক। তিনি নিজে একজন জনপ্রনিধি হয়ে সরকারি কাজে বাধা দিতে পারেন না। আমি মারধরের ঘটনাটি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ মাহফুজুর রহমান মাফুজ বলেছেন, সোমবার সকালে জেলা পরিষদের একটি দল সাইবোর্ড-কচুয়া সড়কে আমার মালিকানাধীন জমিতে থাকা মেহগনি গাছ তাদের বলে শনাক্ত করে তাতে রং লাগাতে শুরু করে। তখন আমি ও আমার সাথে থাকা লোকজন তাদের ওইসব গাছে রং না লাগাতে নিষেধ করলে আমাকে অসম্মান করে কথা বলা শুরু করে। এসময় আমার লোকজন ক্ষুব্দ হলে ওরা কৌশলে সটকে পড়ে। মারধর করলাম কোথায়? দুপুরে দেখলাম ওরা তো গাছ শনাক্তকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ওরা আমার বিরুদ্ধে নানা জায়গায় অভিযোগ করেছে আমি নাকি ওদের মারধর করে আটকে রেখেছি।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় বলেন, জেলা পরিষদের কাছ থেকে অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
