বয়স ১৮ পার হলেও মেলেনি প্রতিবন্ধী ভাতা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ১২:২৩
 
জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী কামরুল। এখন তার বয়স ১৮ বছর। এক সময় সে হামাগুড়ি দিয়ে চলাচল করতো এখন তাও করতে পারে না। অসহায় দরিদ্র পিতামাতা একটি প্রতিবন্ধী কার্ডের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
 
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নের আছিম পাটুলী গ্রামের দিন মজুর দুলাল মিয়ার ৪ ছেলে মেয়ের মধ্যে প্রথম সন্তান কামরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে। ছোটকালে দরিদ্র পিতা মনে করে ছিল এক সময় কামরুল হাঁটবে। অভাবের সংসারের সহায়ক হবে। কিন্তু না দিন যত যেতে থাকে অসহায় পিতা-মাতার অসহায়ত্ব বাড়তে থাকে। শিশুকালে কামরুল হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটলেও এখন সে বিছানা থেকে নড়াচড়াও করতে পারে না। একটি প্রতিবন্ধী কার্ডের জন্য জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু ১৮ বছরেও কার্ড পায়নি প্রতিবন্ধী কামরুলের পরিবার।
 
প্রতিবন্ধী কামরুলের মা জাহানারা খাতুন জানান, প্রতিবন্ধী কার্ডের জন্য তার স্বামী এখন আর কোথায় যেতে চায় না। সকলের মিথ্যে আশ্বাসে তিনি এখন হতাশ। মা হয়ে তো আর সন্তান ফেলে দিতে পারি না। আগের পরের বাড়িতে কাজ করেছি। এখন তাও করতে পারি না। বিছানায় পড়ে থাকা সন্তান রেখে কি করে মানুষের বাড়ি কাজ করতে যাই।
 
আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম সাইফুজ্জামান জানান, প্রতিবন্ধী হলে অবশ্যই সে কার্ড পাবে। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সমাজসেবা অফিস সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে কামরুল প্রতিবন্ধী হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এতদিন কার্ড না পাওয়ার পেছনের কারণ অবশ্য জানা যায়নি।
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার লীরা তরফদার জানান, তালিকাভুক্ত হলেও অবশ্যই সে প্রতিবন্ধী কার্ড পাবে। খোজ নিয়ে তার কার্ডেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
ইত্তেফাক/জামান