সুপ্রিয় বন্ধুরা, অর্থনীতি দ্বিতীয়পত্রে ভালো নম্বর পেতে হলে MCQ অংশে পূর্ণ নম্বর পাওয়া প্রয়োজন। এই পত্রে তথ্য উপাত্তের সঠিক ব্যবহারের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যে সব তথ্য পাঠ্যবইয়ে আছে সেই সব তথ্যের দ্বারা MCQ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এই পত্রে MCQ প্রশ্নের জন্য বিশেষ কয়েকটি অধ্যায়ের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। যেমন-বাংলাদেশের কৃষি, বাংলাদেশের শিল্প, জনসংখ্যা, মানবসম্পদ এবং আত্মকর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থায়ন, মুদ্রাস্ফীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরকারি অর্থব্যবস্থা। এই সব অধ্যায় থেকে MCQ প্রশ্ন বেশি হওয়ার সুযোগ থাকে। এই পত্রেও ভালো নম্বর পেতে MCQ অংশে পূর্ণ নম্বর পাওয়া প্রয়োজন।
অর্থনীতি দ্বিতীয়পত্রটি অনেকাংশে রচনামূলক। অর্থনীতি ২য় পত্রের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য রাখতে হবে যেন নির্দিষ্ট সময়ে সকল প্রশ্নের উত্তর যথাযথ সঠিকভাবে প্রদান করা যায়। অর্থনীতি ২য় পত্রের ক্ষেত্রে জ্ঞান, অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর একটু বেশি লিখতে হবে। এই পত্রে বিশেষ কিছু অধ্যায় রয়েছে যেমন-জনসংখ্যা মানবসম্পদ এবং কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থায়ন, মুদ্রাস্ফীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন পরিকল্পনা এই সব অধ্যায় থেকে প্রশ্নের উত্তর করার সুযোগ থাকলে তা অবশ্যই করতে হবে। এইসব অধ্যায়ের প্রশ্নের উত্তরে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া এই পত্রের কৃষি ও শিল্পের অধ্যায় থেকে প্রশ্নের উত্তর লিখার সময় উত্তরের সাথে সম্পৃক্ত ডাটা ব্যবহার করলে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থনীতি ২য় পত্রে ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য সম্ভব হলে সেই সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত যে সব প্রশ্নে লেখচিত্র দণ্ড চিত্র বা ডাটা ব্যবহার করার সুযোগ থাকে। এই পত্রের সৃজনশীল অংশে জনসংখ্যার ও মানব সম্পদ, খাদ্য নিরাপত্তা, মুদ্রাস্ফীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অধ্যায় থেকে প্রশ্নের উত্তর করার সুযোগ থাকলে তা করা উচিত। তাতে পূর্ণনম্বর পাওয়ার সুযোগ থাকে। একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে কোনো প্রশ্নের উত্তর সরাসরি জানা না থাকলে সেই ক্ষেত্রে বারবার প্রশ্নটি মনোযোগ সহকারে চিন্তা করলে প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসতে পারে, যা তোমাদেরকে পূর্ণাঙ্গ উত্তর করতে সহায়তা করবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
মিহির রঞ্জন তালুকদার
প্রভাষক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি)
বালাগঞ্জ সরকারি কলেজ, সিলেট
সুপ্রিয় পরীক্ষার্থীবৃন্দ শুভেচ্ছা নিও।
যেহেতু এ বিষয়টির পরীক্ষা আগামী ১৬ তারিখ সে হিসেবে তোমাদের হাতে প্রচুর সময় রয়েছে রিভাইস দেওয়ার। যাদের অর্থনীতি বিষয় নেই তাদের ৭-৮দিন বিরতি রয়েছে। তোমরা এই সময়ে ছোট ছোট সমস্যাগুলো আয়ত্তে আনতে পারবে যা বহুনির্বাচনি অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তোমাদের প্রথমেই বলে দেই তোমরা বিষয়টিকে যারা কঠিন মনে করো বিশেষ করে ৫ম অধ্যায় (প্রোগ্রামিং)। সেটিতে এখন আর সময় নষ্ট না করাই ভালো। তবে বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য প্রোগ্রামিং এর ছোট ছোট সমস্যাগুলো অবশ্যই জেনে রাখতে হবে। বহুনির্বাচনি অংশের জন্য প্রতিটি অধ্যায়ই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। এ+ পাবার জন্য বহুনির্বাচনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য ৫ম অধ্যায় থেকে প্রশ্নের উত্তর না দিলেও বাকিগুলো থেকেই ১০০% উত্তর করতে পারবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে সৃজনশীল অংশ থেকে মোট ৮টি প্রশ্ন থাকবে এর মধ্য থেকে ৫টি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। সেখানে যদি প্রোগ্রামিং অংশ কিংবা ডিজিটাল লজিক ডিভাইজ অংশ থেকে উত্তর নাও কর বাকিগুলো থেকেই ৫টি প্রশ্নের উত্তর সহজেই দিতে পারবে। যারা পার তাদের বাদ দেবার প্রশ্নই উঠে না এই টপিকসগুলোর উত্তর ছোট হয় কিন্তু পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়। কাজেই এই বিষয়ে ভালো ফলাফল করার জন্য অবশ্যই বহুর্নিবাচনি অংশে গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রতিটি অধ্যায় সমভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। বিষয়টি যেহেতু টেকনিক্যাল তাই অপ্রাসঙ্গিক কিছু না লিখাই ভালো। যেমন প্রশ্ন আসল চাঁদে না গিয়েও কীভাবে চাঁদে যাওয়ার অনুভূতি পাওয়া যায় সেই প্রযুক্তিটি বর্ণনা কর। অনেকেই দেখা যায় যে চাঁদে যাওয়ার ইতিহাস লিখে ফেলে। যেমন- নিল আর্মস্ট্রং প্রথম চাঁদে গিয়েছিল ইত্যাদি ইত্যাদি, কিন্তু যে বিষয়ের উপর লিখতে বলা হয়েছে অর্থাত্ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কিন্তু তোমাদের উত্তর তার ধারে কাছেও যায়নি। সুতরাং এক্ষেত্রে ঐ প্রশ্নে নম্বর পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই। আবার অনেক প্রশ্নে যখন কোনো পে্রাগ্রাম লিখতে বলা হয় সেখানে হয়ত সি কিংবা সি++ দিয়ে লেখা যায় কিন্তু সেখানে অনেকেই এইচটিএমএল কোড লিখে আসে। এখানেও পরীক্ষক প্রশ্নোত্তর না পড়েই কেটে দিতে পারে। কিন্তু সি কিংবা সি++ দিয়ে লিখলে প্রোগ্রাম যদি ভুলও হয় লাইব্রেরি ফাংশন, ভেরিয়েবল ডিক্লেয়ারেশন ইত্যাদি সঠিক থাকলে এক্ষেত্রে নম্বর পাওয়া যাবে। আবার অনেকেই দেখা যায় সৃজনশীলে ভালো করেও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয় এর মূল কারণ বহুনির্বাচনি অংশে সে খারাপ করেছে। অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষকের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং পুণনিরীক্ষণ করেও কোনো লাভ হয় না। কাজেই বহুনির্বাচনি অংশও ভালোভাবে পড়তে হবে এবং গাণিতিক অংশগুলো বোঝার চেষ্টা করতে হবে। ছোট ছোট সমস্যার সমাধান করতে পারলেই এ অংশে অনেক ভালো করা যায়। তোমরা অনেকেই পরীক্ষার আগে সাজেশনের জন্য উদগ্রীব হয়ে যাও। আসলে সৃজনশীল পদ্ধতিতে হুবহু সাজেশন থেকে কখনই কমন পরবে না। জ্ঞান ও অনুধাবন মূলক (ক ও খ নং) প্রশ্নের জন্য টেক্সট বই ভালোভাবে পড়তে হবে।
