সাভারে চাকুরির প্রলোভনে এক নারীকে (৪০) দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার নির্যাতিতা ওই নারী সাভার থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ সাভার পৌর এলাকার রাজাবাড়ি, গেন্ডা, কাতলাপুর ও ভাগলপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ ঘাট থানার টাঙ্গাপাড়া গ্রামের আজাহার সরদারের ছেলে মো. মিরাজ সরদার (৩২), কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানার পীর মাহমুদ গ্রামের নাবুল হোসেনের ছেলে মো. মোক্তার হোসেন (২৯), গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার শান্তিরাম গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে মাহবুব (৪২), বরিশাল জেলার আগৈলঝরা থানার পতিহার গ্রামের আক্কাস আলী গোমস্তার ছেলে মো. মতি গোমস্তা (৫৫), কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার খামারটগরপুর পাইকপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. রাকিবুল ইসলাম (২৪)।
থানার লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ১০ মার্চ সকাল সাড়ে ৭টায় ওই নারীকে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় অপারেটর পদে চাকুরীর কথা বলে ডেকে নেয় ধর্ষক মিরাজ সরদার। এরপর সকাল সোয়া ১০ টার দিকে তাকে পার্শ্ববর্তী রাজাবাড়ি মহল্লার খায়ের হাজির বাড়ির ৫ তলায় নিজের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর মোক্তার হোসেন, মাহবুব, মতি গোমস্তা, রাকিবুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি ওই কক্ষে আসেন। প্রায় পনের মিনিট পর মতি গোমস্তা ও রাকিবুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ওই কক্ষের বাহিরে অবস্থান নেয়। এ সময় মো. মিরাজ সরদার, মো. মোক্তার হোসেন ও মাহববু ওই কক্ষের ভিতর থেকে দরজা আটকে দেয়। পরে তারা ওই নারীকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোর করে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনাটি জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় ওই নারী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে মঙ্গলবার সকালে সাভার মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: বরগুনায় আবারও প্রাইমারি স্কুলের ছাদ ধ্বস
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. এমারৎ হোসেন বলেন, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ ধর্ষককে গ্রেফতার করে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী ওই নারীকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/অনি
