সরকারি ব্যাংকের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ: অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৭, ১১:২৫
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সরকারি ব্যাংকের প্রধান সমস্যা হচ্ছে খেলাপি ঋণ। তবে এই সমস্যা থেকে উত্তরণে সরকারি ব্যাংকগুলোকে একীভূতকরণ প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) আয়োজিত গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর ইফেকটিভ ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশনের স্টিয়ারিং কমিটির চতুর্দশ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
 
তিনি বলেন, ঋণের সর্বোচ্চ সীমার ক্ষেত্রে যেসব সুবিধা দেওয়া হয়, তার সঠিক বাস্তবায়ন করতে পারছে না সরকারি ব্যাংক। এ কারণে সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার বাড়ছে। তবে অর্থমন্ত্রী মনে করেন, ব্যাংকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ছাড়া চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে আবারো আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।
 
এদিকে অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে আমাদের ৮২৪ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। এর জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের প্রতি গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভরশীল না থেকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে ভাল করায় বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। প্রবল ইচ্ছাশক্তির কারণেই বাংলাদেশের পক্ষে তা সম্ভব হয়েছে।
 
জাতিসংঘ ঘোষিত ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনে ১৭টি উন্নয়ন অভীষ্টের জন্য ১৬৯টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য আগামী ১৩ বছরে সরকারি ও বেসরকারি খাতে প্রচুর বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এজন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বৈদেশিক সাহায্য নির্ভরশীল না হয়ে নিজের দেশের সম্পদের ব্যবহারে উদ্যোগী হতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য যে  লক্ষ্য ঠিক কার হয়েছে তা অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং সমন্বিত। আমাদের সীমিত অভিজ্ঞতা দিয়েও আমরা জানি, বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির প্রক্রিয়া বেশ জটিল। সে কারণে বিভিন্ন দেশ নিজেদের সম্পদ দিয়ে বেশ ভাল কাজ করেছে। এমনকি তারা এমডিজির প্রত্যাশিত লক্ষ্যের চেয়েও বেশি অগ্রগতি দেখাতে সক্ষম হয়েছে।
 
সভায় জার্মানির ফেডারেল মিনিস্ট্রি অব ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের মহাপরিচালক ডোমিনিক শিলার, উগান্ডার অর্থ, পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হারুনা ক্যাসোলো কিয়েউন বক্তব্য রাখেন।
 
ইত্তেফাক/এমআর