ছাত্রকে বলাৎকারের মামলায় রাজশাহীতে মাদ্রাসার সুপার গ্রেফতার

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৭, ২১:৩৮
 
ছাত্রকে বলাৎকারের মামলায় রাজশাহীতে এক মাদ্রাসার সুপারকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ নগরীর ছোট বনগ্রামের জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার সুপারেনটেনডেন্ট আব্দুল জব্বার মাহমুদ জিহাদীকে (৫৫) আটক করে। বোয়ালিয়া থানার ওসি আমান উল্লাহ জানান, এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে থানায় মামলা দায়ের ও বিকেলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। 
 
ওসি জানান, মঙ্গলবার রাতে ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ১৪ বছরের এক ছাত্রের বাবা থানায় এসে বলাৎকারের লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার দুপুরে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল জব্বার নিজের চেম্বারের বাথরুমে ওই ছাত্রকে বলাৎকার করেন। ভুক্তভোগী ছাত্রের বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দা উত্তরপাড়া গ্রামে। 
 
প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই আব্দুল জব্বারকে আটক করা হয়। এসময় তিনি অসুস্থ হওয়ার ভান করলে তাকে রাতেই রাজশাহী মেডিকলে কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ভর্তির পর শারীরিক কোন সমস্যা ধরা না পরায় বুধবার সকালে হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। 
 
ভুক্তভোগী ছাত্র জানায়, সে মাদ্রাসার আবাসিক মেসে থাকে। শুক্রবার দুপুরে হুজুর তাকে চেম্বারে ডেকে তার বাথরুমে কাপড় ধৌত করতে দেন। এক পর্যায়ে সুপার গোসলের অজুহাতে বাথরুমে ঢুকেন এবং হুজুর তাকে বলাৎকার করেন। এরপর তিনি বিষয়টি বাইরের কাউকে বললে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন। কিন্তু সমস্যা হওয়ায় মঙ্গলবার তিনি বিষয়টি মাদ্রাসার একজন শিক্ষককে জানান। পরে ওই শিক্ষক ছাত্রের বাবাকে ঘটনাটি জানালে তিনি রাজশাহীতে আসেন। এরপর তারা রাতে থানায় গিয়ে অভিযোগ দেন। 
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মাদ্রাসার একজন শিক্ষক বলেন, অনেক ছাত্রের সঙ্গে মাদ্রাসা সুপার এধরণের আচরণ করেছেন। কিন্তু লজ্জায় তারা বিষয়টি বাইরে প্রকাশ করতে পারেননি। সম্প্রতি সুপারের স্ত্রীর কাছ থেকে বিষয়টি অন্যান্য শিক্ষকরা জানতে পারেন। এ নিয়ে সুপার তার স্ত্রীকে পিটিয়ে জখমও করেন। এতে সুপারের স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
 
উল্লেখ্য, সুপার আব্দুল জব্বার হেফাজতে ইসলামের রাজশাহী শাখার অর্থ সম্পাদক। এছাড়াও কওমি মাদ্রাসা স্বীকৃতি বাস্তবায়ন কমিটিরও সদস্য। 
 
ইত্তেফাক/আরকেজি