বিবিসি
উগ্রবাদী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) থেকেও যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য রাশিয়া এখন ‘অনেক বেশি হুমকি’। এক সাক্ষাত্কারে এ মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মার্ক কার্লেটন স্মিথ। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ডেইলি টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, রাশিয়া যেসব হুমকি তৈরি করেছে তা যুক্তরাজ্য অস্বীকার করতে পারে না। রাশিয়ানরা যেখানেই দুর্বলতা ও স্পর্শকাতরতা চিহ্নিত করছে সেখানেই আক্রমণ করতে চাইছে।
স্যালসব্যুরিতে পক্ষত্যাগী রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও তার মেয়ের ওপর বিষ প্রয়োগ ছাড়া আরও কয়েকটি সাইবার হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে থাকে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রাশিয়ার এম-১৬ যুদ্ধবিমানের গোপন নথি বিক্রি করেছিলেন সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল। মার্চে স্যালসব্যুরির পার্কে তিনি ও তার মেয়ের ওপর ‘নোভিচক’ হামলা চালানো হয়। পরে একই নার্ভ এজেন্টে আক্রান্ত ৪৪ বছর বয়স্ক ডন স্টুরগ্রেস হাসপাতালে মারা যান।
এ ছাড়া অক্টোবরে কয়েকটি সাইবার হামলার জন্য রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউকে দায়ী করে যুক্তরাজ্য সরকার। এ সময় যুক্তরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও একটি ছোট টেলিভিশন স্টেশনে চালানো সাইবার হামলা চালানো হয়। অবশ্য স্ক্রিপালের ওপর বিষ প্রয়োগে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে রাশিয়া। তারা সাইবার হামলায় সংশ্লিষ্টতাকে ‘বড় ধরনের ভ্রান্তিবিলাস’ বলে আখ্যা দেয়।
গত জুনে যুক্তরাজ্যের সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জেনারেল মার্ক কার্লেটন। এরপর তার দেওয়া প্রথম সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, রাশিয়া ‘নিঃসন্দেহে’ আল কায়েদা বা আইএসের মতো ইসলামিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর চেয়ে বড় হুমকি। তিনি আরও বলেন, পশ্চিমা দুনিয়ার স্পর্শকাতরতা অনুসন্ধান ও সেখানে হামলা চালানো পদ্ধতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়া। বিশেষ করে কয়েকটি অপ্রথাগত ক্ষেত্রে যেমন সাইবার, মহাকাশ এবং সমুদ্র তলদেশের যুদ্ধ ক্ষেত্রে তারা হামলা করছে। তবে রাশিয়ার সৃষ্টি করা এসব হুমকিকে আমরা আর অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাখতে চাই না।
৫৪ বছর বয়সী এ সেনা কর্মকর্তা ৯/১১ হামলার পর আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের অনুসন্ধানে চালানো অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সিরিয়া ও ইরাকে আইএসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকায় তিনি ছিলেন সম্মুখভাগে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রুশোফোবিয়া (রুশ ভীতি) ছাড়ানোর অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, বিশ্ব সম্প্রদায় ও ব্রিটিশ নাগরিকদের বিভ্রান্ত করছে যুক্তরাজ্য। অবশ্য যুক্তরাজ্যের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া।
