ভুয়া সনদে অধ্যক্ষ পদে ১৩ বছর চাকরি!

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৭, ১৮:০২
 
স্নাতকোত্তরের ভুয়া সনদে ১৩ বছর অধ্যক্ষ পদে চাকরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। আদালতে স্নাতকোত্তর সনদের সত্যায়িত কপি জমা না দেওয়ায় দুই দফায় সাময়িক বন্ধ হলো অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের বেতন/ভাতা। তিনি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার সোনাবাজু সরদার কাজিমুদ্দিন টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ পদে চাকরি করছিলেন। 
 
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদ সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাসের প্রথম শ্রেণির সনদ (রোল- ২৬৩৯, রেজি- ৪২৫০৬, সেশন- ১৯৯৬-৯৭) দাখিল করে অধ্যক্ষ পদে চাকরি করছিলেন। তিনি এমপওিভুক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) হয়ে ৩০০৬২৭ নম্বর ইনডক্সে ২০০৪ সালের ১০মে থেকে বেতন/ভাতা উত্তোলন করছিলেন।
 
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ৭ মার্চ ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ভুয়া সনদ, নিয়োগ বাণিজ্য, কলজের টাকা আত্মসাৎসহ কয়েকজন শিক্ষককে তার কক্ষে আটকে রেখে মারপিটের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রাব্বানী সনদটি যাচাইয়ের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর আবেদন করেন। 
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরীক্ষক (সনদ) এএম জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত স্মারকের এক পত্রে  অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের স্নাতকোত্তর পাসের ওই সনদটি সঠিক নয় এবং জালিয়াতির মাধ্যমে তা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এনিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সহকারী আবদুল হাসবি বাদী হয়ে ২০০৯ সালরে ২৭ মার্চ গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন। সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই অধ্যক্ষের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেন। পরে বেতন বন্ধের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আজাদ উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করলে তা ছাড় হয়। 
 
এরপর ২০১৪ সালে অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ছয়জন শিক্ষক নিয়োগের পক্রিয়া শুরু করেন। তখন শামীম আনোয়ার নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি ওই বছরের ২ নভেম্বর নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধসহ ভুয়া সনদধারী অধ্যক্ষের শাস্তি দাবি করে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ মুরাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুই দফায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।
 
কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের চিঠি সূত্রে জানা গেছে, স্নাতকোত্তর পাশের ভুয়া সনদ সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন (৭৬৪৩/২০০৫) করেন ওই অধ্যক্ষ। রিটের প্রেক্ষিতে আদালত বেতন/ভাতা উত্তোলনের জন্য অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেন। ওই আদেশের প্রেক্ষিতে বেতন/ভাতা উত্তোলন করছিলেন তিনি। চলতি বছরের ২৮ মে আদালতের অন্তবর্তীকালীন আদেশের সার্টিফাইড কপিসহ অন্যান্য কাগজপত্র চেয়ে অধ্যক্ষ বরাবর ১নম্বর পত্র পাঠায় কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর। কিন্তু অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ আদালতের অন্তবর্তীকালীন আদেশের সার্টিফাইড কপি ও স্নাতকোত্তর সনদ ব্যতীত আংশিক কাগজপত্র স্বাক্ষরবিহীন পাঠান। 
 
২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুনরায় কাগজপত্র চেয়ে আবারো চিঠি দেয়া হয়। চিঠিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে ব্যর্থ হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু অধ্যক্ষ কাগজপত্র প্রেরণ না করে দুই মাসের সময় চেয়ে আবেদন করেন। 
 
নির্দিষ্ট সময়ে কাগজপত্র না দেওয়ায় অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের বেতন/ভাতা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে বলে গত ১৭ অক্টোবর পত্র প্রেরণ করে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর। পত্র প্রাপ্তির ১০দিনের মধ্যে স্থায়ীভাবে কেন এমপিও বাতিল করা হবে না তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি