স্পোর্টস রিপোর্টার
শচীন টেন্ডুলকারের মাধ্যমে ‘টেনিস এলবো’ ইনজুরিটা ক্রিকেট বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে। এই ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ার অনেকবারই মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে ভারতের সাবেক এই ব্যাটিং কিংবদন্তিকে। অথচ একই ইনজুরি নিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে যাচ্ছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। যদিও হেড কোচ স্টিভ রোডসের বিবেচনায় তরুণ এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারকে ধরা হচ্ছে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অন্যতম তুরুপের তাস।
নিউজিল্যান্ড থেকেই এই ইনজুরি সঙ্গী হয়েছিল সাইফউদ্দিনের। কোচের পরামর্শ ছিল তাকে বিশ্রামে রাখার। প্রিমিয়ার লিগের ড্রাফটেও উল্লেখ ছিল ৬ এপ্রিলের পর থেকে খেলবেন তিনি। কিন্তু গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে ২৭ ফেব্রুয়ারিই আবাহনীর হয়ে প্রিমিয়ার লিগ টি-২০ তে খেলেছেন এই অলরাউন্ডার। পরে মূল লিগেও নিয়মিত খেলছেন। অবশ্য ইনজুরি কাটাতে বিশেষ ইনজেকশন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন জাতীয় দলের ফিজিও।
আবাহনীর হয়ে খেলায় সেটি আর দেওয়া হয়নি তার। এই ইনজুরির কারণে দূর থেকে থ্রো করতে সমস্যা হয় সাইফউদ্দিনের। তবে ব্যাটিং, বোলিং করতে পারছেন। খুব বেশি দূরে নয় বিশ্বকাপ। মে মাসের শুরুতেই আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ, তারপর বিশ্বকাপ। আর বাংলাদেশের স্কোয়াডে সাইফউদ্দিনের জায়গা নিশ্চিতই বলা চলে।
কিন্তু বিশ্বকাপে পুরো ফিট সাইফউদ্দিনকে পাবে না বাংলাদেশ। কারণ এখন আর ইনজেকশন দেওয়ার চিন্তা করছে না বিসিবির চিকিত্সকরা। গতকাল বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা এখন ইনজেকশন দেওয়ার চিন্তা করছি না। কারণ ইনজেকশন দিলে ওকে বিশ্রাম নিতে হবে। সেটা অন্তত ২১ দিন। সেই সুযোগ এখন আর নেই।’
আবার স্বাভাবিকভাবে বিশ্রামে কিছুটা কেটে যেতে পারে এই ইনজুরি। দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘ব্যাটিং, বোলিংয়ে সমস্যা নেই। শুধু থ্রোয়িংয়ে সমস্যা। দূর থেকে থ্রো করতে না দিলে ধীরে ধীরে অনেকটা কেটে যেতে পারে এটা।’ তাই এটা এখন স্পষ্ট, আনফিট সাইফউদ্দিনই যাবেন বিশ্বকাপে।
এদিকে আবাহনী ক্লাবের সূত্র গতকাল জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরে খেলার আগ্রহ দেখিয়েছেন সাইফউদ্দিন। তবে বলেছিলেন, দূর থেকে থ্রো করতে পারবেন না। তাই আবাহনী তাকে সেভাবেই উইকেটের কাছে রেখে ফিল্ডিং করিয়েছে। আন্ডারআর্ম থ্রো করার সুযোগ দিয়েছে।
যদিও গতকাল এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কথা বলতে রাজি হননি সাইফউদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন, আবাহনী থেকে এই বিষয়ে মিডিয়ায় কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে এই তরুণ অলরাউন্ডারকে।
পুরো ফিট না থাকলেও বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নে বিভোর সাইফউদ্দিন। মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল অনুশীলন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘প্রত্যেক ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপে খেলার। যদি সুযোগ পাই অবশ্যই আমারও স্বপ্ন পূরণ হবে। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের কন্ডিশন, নিজেকে প্রমাণ করার মতো ভালো মঞ্চ বিশ্বকাপ। বিশেষ করে আমরা যারা জুনিয়র প্লেয়ার, তাদের জন্য। ভালো করলে সামনে আরো ভালো সুযোগ আসবে। চেষ্টা করব নিজের শতভাগ দেওয়ার।’
বিশ্বকাপে থাকবে রানের উইকেট। যেখানে বোলিংয়ের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত সাইফউদ্দিন। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আইসিসি ইভেন্টে উইকেট একটু ব্যাটিং সহায়ক হয়। ৩০০ বা ২৯০ এমন রান হয়। কিছুটা হলেও চ্যালেঞ্জিং হবে। যেহেতু বিশ্বের সব সেরা ব্যাটসম্যানরা খেলবে। তবে এই চ্যালেঞ্জটা নিতে প্রস্তুত আমি।’
