নীলফামারীর মানুষ উপভোগ করলো প্রথম শীতের সকাল!

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৭, ১৩:৫৯
 
শীত এসেছে। তাই নীলফামারী জেলার মানুষ উপভোগ করলেন প্রথম শীতের সকাল। একটু একটু করে গাছের পাতায়, ঘাসের মাথায় ও সোনালি ধানের শীষে জমতে শুরু করেছে শিশিরের কণা। কুয়াশায় ঢেকে গিয়েছে জেলার জলঢাকা সহ সব উপজেলা।
 
সরেজমিনে জলঢাকা উপজেলায় দেখা যায়, গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার পর থেকে শুরু হয় ঘন কুয়াশা। একটু-একটু করে কুয়াশা জড়িয়ে ধরছে প্রকৃতিকে। শনিবার সকালেও দেখা গেছে সেটি। এতে হালকা শীতের অনুভূতি জাগিয়ে দিয়েছে মানবজাতিসহ সকল প্রাণীকে। সারা রাত কুয়াশা পড়ায়, শনিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত আকাশে সূর্য দেখা দেয়নি। উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায় কুয়াশার কারণে দ্রুতগামী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। এ ছাড়াও ভোর ৫টার দিকে উপজেলা শহর ও গ্রামের কাচা-পাকা রাস্তাগুলোতে বিভিন্ন বয়সের অনেক যুবক-যুবতি, বৃদ্ধ ও শিশু বাচ্চাদের দল বেঁধে হাটতে দেখা গেছে। এ সময় তাদের সবার মুখে ছিল আনন্দের ছাপ।
 
হঠাৎকরে ভোর ৫টার সমায় রাস্তাগুলো দিয়ে হাটার বিষয়ে জানতে চাইলে অনেকে বলেন, 'আজকের সকালটা আমাদের কাছে ঈদের দিনটির মত আনন্দিত লাগছে। এর কারণ হচ্ছে, গত বছরগুলোতে এই এলাকায় ভাদ্র-আশ্বিন মাসে শীত এবং কুয়াশা পড়ত। বর্তমান সময়ে মানুষ লেপ-কাঁথা ছাড়া থাকতে পারত না। অথচ এ বছর আমরা এখন পর্যন্ত ফ্যান চালিয়ে ঘুমাই।' তারা আরও বলেন, 'গতকাল রাতে এই প্রথম কুয়াশা পড়েছে। এতে আবহাওয়াটা একটু ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা লাগছে। তাই শীত ও ঠাণ্ডা হওয়া উপভোগ করতে সবাই রাস্তায় বেরিয়ে এসেছি।'
 
কথা হয় আরও স্কুল শিক্ষার্থী তৃষা, স্বজন ও মনিরের সাথে। তারা বলেন, আমাদের গ্রামে এসি নাই। তাই আজকে কুয়াশায় ঢাকা সকালটা এসির মত মনে হচ্ছে। এদের সাথে কথা বলার সময় খুব দ্রুত এসে সামনে দাড়ায়, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রফিকুল ইসলাম লিমন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি যখন ছোট্ট ছিলাম। তখন ঈদের দিন খুব সকালে ঘুম থেকে জেগে রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করতাম। ঠিক আজকে এই হালকা শীতের সকালটা আমার ঐ দিনগুলির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।'
 
ইত্তেফাক/জামান