কপোতাক্ষ নদের উপর নির্মিতব্য সেতুর কাজ শেষ করার দাবি

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৭, ১৫:০২
 
খুলনা-সাতক্ষীরার মিলনস্থলে কপিলমুনি-কানাইদিয়াবাসীর বহু প্রত্যাশিত কপোতাক্ষ নদের উপর নির্মিতব্য সেতুটির কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। এই প্রেক্ষাপটে সেতুর কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা সহ বিভিন্ন সংগঠন।
 
জানা যায়, ঈদের আগে এক সাক্ষাতকারে নদের দুই পারের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোস্তফা লুৎফুল্ল্যাহ এবং অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব নুরুল হক  দুইজনেই একমত ছিল যে কপোতাক্ষ খনন করার পর যেখান থেকে সেতুর কাজ হয়েছে ঐ খানেই পুনর্নির্মাণ হবে সেতুটি। অথচ পূর্বের জায়গায় সেতু বাস্তবায়ন করতে আগ্রহী নন তালা কলারোয়ার সংসদ সহ গুটি কয়েক নেতারা। আর এ নিয়েই পাইকগাছার কপিলমুনি কানাইদিয়ার সংযোগ সেতুর পুনর্নির্মাণের দাবীতে সোচ্চার হয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলি। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার কপিলমুনি বাজারের হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি চেয়ারম্যান ও সেতু বাস্তবায়নের আহবায়ক মো. কওসার আলী জোয়াদ্দারের সভাপতিত্বে কপিলমুনি প্রেসক্লাবে শনিবার এলাকার সর্ব স্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সেতু বাস্তবায়নের ডাক দিয়েছেন।
 
উক্ত কানাইদিয়া-কপিলমুনির সেতু বাস্তবায়নে বক্তারা বলেন, ১৯৯৬-৯৭ অর্থ বছরে গুরুত্বপূর্ণ ফিল্ডার গ্রামীণ সড়কে বৃহৎ ব্রিজ কালভাট নির্মাণ প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ করাই যা দিয়ে সাতক্ষীরার কানাইদিয়া ও খুলনার কপিলমুনির কপোতাক্ষ নদের উপার সেতু নির্মাণে ১ কোটি ৯৩ লাখ ৪২ হাজার ৯১৯ টাকা ধার্য করা হয়। সেতুটির ১৪২ মিটার টেন্ডার দিয়ে কাজ শুরু করা হয়। যা পরবর্তীতে দুই কোটি ৩৬ লাখ টাকায় প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সে সময় নদীতে অতিরিক্ত স্রোত থাকায় বার বার পিলার বেঁকে যাওয়ায় কাজ বন্ধ করে দেয় উক্ত প্রতিষ্ঠানটি। এরপর অন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়ে কিছু দিন করে চলে যায়। বর্তমান সময়ে আবারও ওই সেতুর কাজ নিয়ে সাতক্ষীরার তালা-কলারোয়ার সংসদ সদস্য মোস্তফা লুৎফুল্লাহ সেতু পূর্ণ নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করলেও জায়গা পাল্টানোর প্রস্তাব দেয়। এতেই আন্দোলনের ডাক দেয় বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনির ব্যবসায়ী রাজনৈতিক সহ সকল স্তরের গন মানুষ। তাদের ওই এলাকার মানুষদের কষ্ট হবে বেশি হবে যদি জায়গা পুনঃনির্ধারণ করা হয়।
 
আন্দোলনরত বক্তা ও বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরদার গোলাম মোস্তফা এ প্রতিনিধিকে বলেন, সেতুর কাজ তো পূর্বে ১৬ ভাগের ৬ ভাগ হয়ে গেছে বাকি কাজতো অল্প তা বাদ রেখে এখন অন্যত্রে সেতু হবে এটা অমানবিক। কানাইদিয়ার চেয়ারম্যান মফিদুল হক লিটু বলেন, জনগণের সুভিধানুযায়ী সেতু হোক নির্দিষ্ট স্থানে। ডা. বিপুল হালদার বলেন, ঠেলাঠেলি না করে দীর্ঘ দিনের চাওয়া সেতুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হোক সবার কল্যাণে। সাবেক ব্যাংক ম্যানেজার শেখ আ. রশিদ ও শিল্পপতি শেখ আনারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও পূর্বের কাজ বাস্তবায়ন হয়নি অথচ সেতুর জন্য রাস্তা তৈরি হয়ে আছে দুই পাশে, এটা না হলে সরকারের পূর্বের কোটি টাকার ক্ষতি হবে। চেয়ারম্যান কওসার আলী জোয়াদ্দার বলেন, বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনির কথা ভেবেই সাবেক ও বর্তমান সংসদ নুরুল হক সাহেব এ সেতু করার উদ্যোগ নিয়েছিল অতএব এটাই বাস্তবায়িত হোক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কপিলমুনি স্কুল-কলেজ ব্যবসায়ী ও সামাজিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, এ সেতু বাস্তবায়ন হলে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর ও খুলনার পাইকগাছার বাণিজ্যিক খাতের দৃশ্য পাল্টে যাবে।
 
ইত্তেফাক/জামান