শজিমেক হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারপিট, ৩ সদস্যর তদন্ত কমিটি

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৭, ২০:০৫
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারপিটের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। এর সঠিক কারণ জানতে শনিবার ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে জয়পুরহাট থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রাহেলা বেওয়ার (৭৫) চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে মারপিটের ঘটনা ঘটে। রাহেলা বেওয়ার ছেলে গাজীউর রহমান ও নাতি রুম্মান হোসেন শান্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে তাদের ওপর হামলা ও মারপিটের অভিযোগ আনে। অন্যদিকে চিকিৎসকরা উল্টো তাদের ওপর হামলার অভিযোগ আনেন। ঘটনার পর শুক্রবার অসুস্থ রাহেলা বেওয়াকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হলে রাস্তায় মৃত্যু হয় তাঁর। 
 
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, শনিবার ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা.কামরুল আহসান। এ ছাড়াও মেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. মমতাজুল ইসলাম ও ওয়ার্ড মাস্টার (ইনচার্জ) রফিকুল ইসলাম। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
 
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের সভাপতি ডা.আসিফ জানান, রোগীর স্বজনরা যখন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে অশ্লীল ভাষায় কথা বলে এবং অন্য চিকিৎসকদের একটি রুমে আটকে রেখে হামলা করে তখন হাসপাতালে অবস্থানরত অন্যান্য রোগীর এ্যাটেন্ডন্টসরা তাদের মারপিট করে। এখানে মারপিটের ঘটনায় কোনো ইন্টার্ন চিকিৎসক জড়িত নয়।
 
জয়পুরহাট সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যাওয়া আহত রুম্মান হোসেন শান্ত জানান, ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা বিনা অপরাধে তাদের রুমে আটকে রেখে মারপিট করে। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
 
হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা শজিমেকে রুদ্ধদার বৈঠক করেন। পুরো পরিস্থিতি সামলে নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাদের পক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য করেন। এভাবে রোগীর স্বজনকে মারপিটের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে শজিমেক সংশ্লিষ্টরা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
 
ইত্তেফাক/এমআই