গাজীপুরে আ’লীগের সভায় উত্তেজনা, পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ১০

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৭, ২২:৪৩

গাজীপুরে আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকালে দু’পক্ষের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও গোলযোগ সৃষ্টি হলে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।

এ সময় লাঠিচার্জ এবং হুড়োহুুড়িতে অন্তত ১০জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে রুস্তম, সোহেল ও আসিফসহ কয়েকজনকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, শনিবার বিকালে গাজীপুর জেলা শহরের রাজবাড়ি সড়ক সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা চলছিল। সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক, অ্যাডভোকেট রহমত আলী এমপি, সিমিন হোসেন রিমি এমপি, জেলার আ লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ এবং যুগ্ম সম্পাদক ও অ্যাডভোকেট রহমত আলী এমপির ছেলে জামিল হাসান দূর্জয়সহ কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
IMG0
সভা শুরুর কিছুক্ষণ পর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জামিল হাসান দূর্জয় কর্মী-সমর্থক নিয়ে সভাস্থলের দিকে আসতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা সভাস্থলের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজের সমর্থকরা বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় সভাস্থলের বাইরে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

এদিকে সভাকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতির কারণে জেলা শহরের প্রধান সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে অনাকাংখিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ ধাওয়া ও লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এদিকে এ সভাকে কেন্দ্র করে দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলীয় কার্যালয়ে নেতা কর্মীরা মিছিল সহকারে জেলা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকে। বিশেষ করে গাজীপুর সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সদ্য ঘোষিত কমিটির পক্ষের ও বিপক্ষের সমর্থক এবং শ্রীপুর থেকে ইকবাল হোসেন সবুজ ও জামিল হাসান দূর্জয়ের সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়।

মন্ত্রী, এমপি ও দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সভাস্থলে আসতে থাকলে দলীয় নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে তাদের স্বাগত জানান। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে থেকে রেল গেইট পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

গাজীপুর সদর উপজেলার সাবেক ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি গাজীপুর সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে জেলা আওয়ামীলীগ। যা ছিল সম্পূর্ণ দলীয় গঠণতন্ত্রের পরিপন্থী।

তিনি বলেন, শনিবার বিকালে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে কাযনির্বাহী কমিটির পূর্বনির্ধারিত সভা চলছিল। ওই সভায় আমরা সদর উপজেলা কমিটি বাতিলের দাবি জানাতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে একত্রিত হচ্ছিলাম। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজের নেতা-কর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, সভাস্থলের প্রবেশমুখে কর্মী সমর্থকদের ভিড়ের কারণে নেতৃবৃন্দ সভাস্থলে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়।

ইত্তেফাক/নূহু