পাইকগাছার ওড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিত্যক্ত ঘোষণার তিন বছর অতিবাহিত হলেও এখনো নতুন ভবন নির্মিত হয়নি। ফলে বিকল্প হিসাবে ছোট্ট একটি খুপড়ি ঘরে চলছে পাঠদান।
একটি কক্ষে ছয়টি ক্লাস নিতে গিয়ে একদিকে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকরা। অপরদিকে স্কুলের যাতায়াতের কোনো রাস্তা না থাকায় এবং বিকল্প হিসাবে তৈরি ঘরটির মেঝেতে পানি উঠে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে লেখাপড়া করছে শিক্ষার্থীরা।
১৯৭৭ সালে স্থাপিত হয় উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের ৯৫নং ওড়াবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৯৩ সালে বিদ্যালয়টি সংস্কার করা হলে লবণাক্ততার কারণে ধীরে ধীরে কয়েক বছরের মধ্যে স্কুল ভবনটি নষ্ট হয়ে যায়। সম্পূর্ণ ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ তিন বছর আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। নতুন কোনো ভবন নির্মিত না হওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ পুরাতন ভবনের পাশেই পুকুর ধারে নিচু জায়গার উপর ১০-২০ ফুট আয়তনের ছোট একটি টিনসেডের খুপড়ি ঘর তৈরি করে কোনোরকমে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
বর্তমানে স্কুলে চারজন শিক্ষক কর্মরত ও শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে এ প্রতিষ্ঠানে। ফলে ছোট্ট একটি ঘরে দুই সিফটে নিতে হচ্ছে ছয়টি ক্লাস। এতে শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত হলে একসঙ্গে সবাই বসতে পারে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
প্রধান শিক্ষক রণজিত্ কুমার গাইন জানান, চরম দুর্ভোগের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়। অপরদিকে ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাওয়াসহ শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট স ম বাবর আলী জানান, নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়েছে। এটি অনুমোদন হলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
