পিঁয়াজের ভাণ্ডার খ্যাত সুজানগরে পিঁয়াজ সংকট, দাম আকাশ ছোঁয়া

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৭, ১১:১৫
 
উত্তরাঞ্চলের মধ্যে পাবনার সুজানগর উপজেলাকে পিঁয়াজ ভাণ্ডার বলা হয়। এ উপজেলায় উত্তরাঞ্চলের মধ্যে সব চেয়ে বেশি পিঁয়াজ আবাদ করা হয়। সেকারণে সারা দেশে পিঁয়াজ সংকট দেখা দিলেও এ উপজেলায় পিঁয়াজের কোন সংকট হয়না। এমনকি এখানে দামও তেমন বাড়েনা। অথচ বর্তমানে সেই সুজানগর উপজেলাতেই পিঁয়াজ সংকট দেখা দিয়েছে। আর এই সংকটের কারণে হাট-বাজারে পিঁয়াজের দামও আকাশ ছোঁয়া।
 
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১৭ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ আবাদ করা হয়েছিল। অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক সময়ে সার-বিষ দেওয়ায় ফলনও হয়েছিল বেশ ভাল। কিন্তু পিঁয়াজের ভরা মৌসুমে হাট-বাজারে দাম ছিল খুবই কম। সে সময় প্রতি মণ পিঁয়াজ বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫শ থেকে ৬শ টাকা দরে। বলা চলে তখন উপজেলার অধিকাংশ হাট-বাজারে পানির দরে পিঁয়াজ বিক্রি হয়েছে।
 
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানায়, প্রতি বছর পিঁয়াজের ভরা মৌসুমে দাম কম হলেও মৌসুমের মাঝামাঝি সময় অর্থাৎ জুন-জুলাই মাসের দিকে দাম বৃদ্ধি পায়। এতে তাদের ওই সময়ের লোকসান পুষিয়ে যায়। কিন্তু এবার আগস্ট মাসেও তেমন দাম বাড়েনি। এ সময় প্রতিমণ পিঁয়াজ ১হাজার থেকে ১১‘শ টাকা দরে বিক্রি হয়। ফলে অধিকাংশ কৃষক দাম বৃদ্ধির আশা ছেড়ে দিয়ে ঘরে মজুত রাখা হাজার হাজার মণ পিঁয়াজ বিক্রি করে দেয়। আর এর পর থেকেই বাজারে পিঁয়াজ সংকট এবং দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে।
 
বর্তমানে হাট-বাজারে পিঁয়াজের আমদানি খুবই কম। গত দুই মাস আগেও উপজেলার হাট-বাজারে হাজার হাজার মণ পিঁয়াজ আমদানি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সুজানগর পৌর বাজারসহ অধিকাংশ হাট-বাজারে এক দেড় হাজার মণের বেশি পিঁয়াজ উঠছেনা। আগের তুলনায় আমদানি কম হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্রারিক্ত। বর্তমানে হাট-বাজারে প্রতি মণ পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩হাজার টাকা দরে। আর প্রতি কেজি পিঁয়াজ খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৭০থেকে ৭৫টাকা দরে।
 
পিঁয়াজের বর্তমান বাজার দরে কৃষকরা বেশ খুশি। তবে ক্রেতা দিশেহারা। বিশেষ করে নিম্ন এবং মধ্য আয়ের মানুষের পক্ষে পিঁয়াজ কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পৌরসভার ভবানীপুর গ্রামের বাদাম বিক্রেতা আব্দুল মজিদ বলেন, তরিতরকারি রান্নার জন্য পিঁয়াজ অতি প্রয়োজনীয় উপকরণ। তাছাড়া পিঁয়াজ ছাড়া কোন তরকারিই স্বাদ লাগেনা। কিন্তু হাট-বাজারে প্রতি কেজি পিঁয়াজ ৭০থেকে ৭৫টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় কিনতে পারছিনা। সেকারণে নিরুপায় হয়ে পিঁয়াজ ছাড়াই তরিতরকারি রান্না করে খাচ্ছি।
 
ইত্তেফাক/এমআর