শেরপুরে অবাধে চলছে বক শিকার

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৭, ১৪:০১
 
শীতের আমেজ শুরু হতে না হতেই শ্রীবরদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নানান প্রজাতির বক শিকারে মেতে উঠেছে এক শ্রেণীর মানুষ। সামাজিক অসচেতনতা ও পেটের তাগিদে মৌসুমি এ শিকারিদের হাতে প্রতিদিনই মারা পড়ছে বক। পরে তা বিক্রি করা হচ্ছে প্রকাশ্যে স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজারে।
 
মূলত জীবিকা নির্বাহের তাগিদে শ্রীবরদী উপজেলার বেশ কয়েকজন মৌসুমি শিকারি প্রতিদিন ভোর থেকে দিনের প্রথম প্রহর পর্যন্ত ফসলি মাঠ ও ধানক্ষেতে খাঁচা বসিয়ে বক শিকার করছে। প্রতিনিয়ত এভাবে বক শিকার করায় পরিবেশে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বিলুপ্ত হতে বসেছে পরিবেশ রক্ষাকারী বক।
 
বকশিকারি উপজেলার মাটিয়াকুড়া গ্রামের হুরমুজ, বাশার, জহুরুল হকের সাথে কথা হয়। তারা জানান, প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত বক শিকার করেন তারা। এজন্য কলাপাতার ফাঁদ তৈরি করে তার উপর নিজের পোষা বক বসিয়ে দেন। পোষা বকের ওড়াওড়ি দেখে তার সঙ্গে এসে ফাঁদে আটকা পড়ে অন্যান্য বক। পরে তারা এসব বক স্থানীয় বাজারে দেড়শ টাকা থেকে দুইশ টাকা জোড়া হিসেবে বিক্রি করে।
 
বক শিকারি আলতাফ, আবেদালি জানান, পাখি শিকার নিষিদ্ধ তা তারা জানেন। কিন্তু পেটের দায়ে তাদের এ কাজ করতে হচ্ছে। এ সময়ে প্রায় তিন মাস তারা এভাবে পাখি শিকার করে সংসার চালান। শেখদি গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, শীত মৌসুম আসলেই পাখি শিকারিরা গ্রামের চারপাশে বিভিন্ন এলাকা থেকে উড়ে আসা বকসহ বিভিন্ন পাখি নির্বিচারে শিকার শুরু করে। আইনি পদক্ষেপ ছাড়া এ শিকার বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য তার।
 
যোগাযোগ করা হয়  শেরপুর জেলা বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষক কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামানের সাথে। তিনি বলেন, পাখি শিকার আইনত নিষিদ্ধ। বক শিকার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিকারিরা ধরা পড়লে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ