প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা
জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
অস্তিত্ব সংকটে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ছোট-বড় অধিকাংশ খাল। স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিভিন্ন স্থানে এসব খাল দখল করে ভরাট ও সংকীর্ণ করায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। প্রাকৃতিক পানির উত্স এসব খালগুলো বেদখল হয়ে যাওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা অর্ধশত খালের মধ্যে পৌর এলাকার অনেক খাল বেদখল হয়ে যাচ্ছে। যত্রতত্র খাল দখল করে বসত-বাড়ি ও স্থাপনা গড়ে উঠায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পৌর এলাকা ও উপজেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, মত্স্য ঘের তৈরি হওয়ার ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই খালের তীরবর্তী গ্রামসমূহ পানিতে ডুবে থাকে।
উলুচামরী কোনারপাড়ার কৃষক ও লবণ চাষি জাফর আলম বলেন, সরকারের খাল সংরক্ষণের উদ্যোগ না থাকায় হঠাত্ বৃষ্টিতে চাষাবাদ ব্যাহত হয়। খাল-নদী দখল হওয়ায় ২০১০ সালের ১৫ জুন ভয়াবহ পাহাড় ধস ও পানির ঢলে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানিসহ কোটি কোটি টাকার মত্স্য ঘের এবং ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হিসাবে গ্রামীণ খালগুলো বেদখল হওয়াকে তিনি দায়ী করেন।
পৌর আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক মো. আলম বাহাদুর, সুশাসনের জন্য নাগরিকের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক এবিএম আবুল হোসেন রাজু, হ্নীলা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জহির আহম্মদসহ স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা মনে করেন, উপজেলার হ্নীলার মৌলভীবাজার উত্তর, দক্ষিণ, ওয়াব্রাং, হ্নীলার ১নং স্লুইস গেইট খাল, চৌধুরী পাড়া, রঙ্গিখালী আমিরী খাল, আলীখালী, লেদা, মুচনী ছুরী খাল, জাদীমুরার জাদীর খাল, দমদমিয়া মগর ছরা খাল, চেকপোস্ট খাল, কেয়ারী সিন্দাবাদের পাশের খাল; হোয়াইক্যংয়ের সাতঘড়িয়া পাড়া খাল, পূর্ব সাতঘড়িয়া পাড়া খাল, নয়াবাজার চাঙ্গিরী খাল, মিনা বাজার, ঝিমংখালী, নয়াপাড়া, কাঞ্জর পাড়া, উনছিপ্রাং, রইক্ষ্যং, লম্বাবিল, কেয়ামুখী খাল, হোয়াইক্যং, ঘিলাতলী খাল; বাহারছড়ার রাজারছড়া, নোয়াখালী, বাগঘোনা, কচ্চপিয়া, বড় ডেইল, ডাক ছরা, মারিশ বনিয়া, মাথা ভাঙ্গা কবর স্থানের পাশের খাল, মাথা ভাঙ্গা পরিষদের উত্তর পাশের খাল, বাইন্যা পাড়া, হলবনিয়া, গর্জন বনিয়া, জাহাজপুরা বড় খাল, হাজম পাড়া, শীল খালী, বড় শীল খালী, তারের ছড়া খাল, কাদুরার ছড়া খাল, রাইল্যা ছরা খাল, মরিচ্যা ছরা খাল, রকিম্মার ছরা খাল, শামলাপুর খাল; টেকনাফের হাবির ছড়া, মিঠাপানির ছড়া, দরগার ছড়া, উত্তর লম্বরী, দক্ষিণ লম্বরী, মহেশখালীয়া পাড়া, ছোট হাবিব পাড়া, নাজির পাড়া, মৌলভী পাড়া, জাহালিয়া পাড়া, হাতিরায় ঘোনা, করাচী পাড়া, কায়ুক খালী খাল, হেচকে খাল, নাইট্যং পাড়া, কেরুণতলী, জাইল্যা খাল; সাবরাংয়ের জব্বার সিকদার খাল, বাহারছড়া খাল, উঃ নয়াপাড়া, মুণ্ডার ডেইল, মণ্ডল পাড়া, ও মগপাড়া খাল বিভিন্ন স্থানে বেদখল হয়ে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যহত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে হোয়াইক্যং মডেল ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন, খাল সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর সাধারণ মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। এলাকাভিত্তিক মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে মৃত খালগুলোতে প্রবাহ ফিরিয়ে এনে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে সমাজের সব পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায় হতে খাল সংরক্ষণের উদ্যোগ না হলে আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করতে পারে।
এ ব্যাপারে টেকনাফ সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় চাকমা জানান, বেদখল হয়ে যাওয়া খাল দখলমুক্ত করতে শ্রীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে জানান।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান বলেন, আসলে অধিকাংশ খালের স্বাভাবিকতা নেই। ইতোমধ্যে খাল দখলদারদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে জানিয়ে তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল খনন কর্মসূচি চালুসহ দখলদারদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।
