নরসিংদীর চাঞ্চল্যকর কিশোরী আজিজা হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। হত্যাকাণ্ডের ৪দিন পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার মীরেরগাও গ্রাম থেকে তাদেরকে মঙ্গলবার গ্রেফতার হয়।
তারা হলেন- প্রধান আসামি বিউটি আক্তার এবং তার মা সানোয়ারা বেগম।
জানা গেছে, শিবপুর উপজেলার ভিটি খৈনকুট গ্রামের আব্দুস সাত্তারের কন্যা স্থানীয় খৈনকুট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী আজিজা আক্তারকে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে অপহরণ করে গায়ে কেরসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ জানতে পারে যে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি পরকীয়ার ঘটনা রয়েছে।
চাচি বিউটি আক্তারের সাথে পরিবারের একজন সদস্যসহ এলাকার একাধিক ব্যক্তির সাথে তার পরকীয়া ছিল। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে ঘটনাক্রমে বিউটিকে এক পরকীয়া প্রেমিকের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে আজিজা। এই ঘটনার পর থেকে বিউটি তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে সে তার পরকীয়া প্রেমিকদের আজিজার পেছনে লাগিয়ে দেন। তারা পরিকল্পিতভাবে এই মর্মে খবর প্রচার করে যে, আজিজা তার চাচি বিউটির মোবাইল ফোন চুরি করেছে। তারা হুমকি দেয় যে, মোবাইল ফোন ফেরত না দিলে তাকে পুড়িয়ে মারা হবে। এই ঘটনা চলমান অবস্থায় শুক্রবার বিউটির লেলিয়ে দেয়া প্রেমিকরা তাকে অপরহণ করে সিএনজিযোগে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যান। একই দিন রাত ৮টায় তারা বাড়ির অদূরে একটি টিলায় নিয়ে হাত, পা, মুখ ও বেঁধে আজিজার গায়ে কেরসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
এসময় আজিজার চিৎকারে পাশের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হকসহ ২/৩ ব্যক্তি দৌঁড়ে ঘটনাস্থলে গেলে অগ্নিসংযোগকারীরা পালিয়ে যান। পরে তারা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতাল ও পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে আজিজার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় বিউটি, বিউটির মা সানোয়ারা বেগম, চাচাতো দাদী তমুজা খাতুন ও চাচাতো ভাই রুবেলের নামে এবং অগ্নিসংযোগকারী অজ্ঞাতনামা ৩জনকে আসামি করে আজিজার বাবা আব্দুস সাত্তার শিবপুর মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
এদিকে আজিজার চাচাতো দাদী তমুজা বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে ২ দিনের রিমান্ড নিয়েছে পুলিশ।
ইত্তেফাক/আরকেজি
