ভিটামিন 'সি' সমৃদ্ধ একটি রসালো ফল হচ্ছে মাল্টা। ফলটি এক সময় বাংলাদেশর পাহাড়ি অঞ্চলে চাষ হলেও এখন আর পাহাড়ে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের সমতল ভূমিতেও মাল্টার চাষ করে ইতিমধ্যে সফলতা পেতে শুরু করেছেন কৃষকরা। তেমনি এ দেশের আবহাওয়ায় মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার খারপুরা গ্রামের অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিম সরদার।
চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০১৩ সালে আবদুর রহিম সিদ্ধান্ত নেন মাল্টা বাগান করবেন। ৮ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক ৫০টি মাল্টার চারা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সংগ্রহ করে ২০১৩ সালে রোপণ করেন। দুই বছরের মাথায় মুকুল আসে। তারপর আশানুরূপ ফল আসে। প্রাথমিক ভাবে মাল্টা চাষে সফলতার অনুপ্রাণিত হয়ে ১৫ শতাংশ জমিতে শতাধিক বারি-১ জাতের মাল্টার চারা রোপণ করে মাল্টা চাষ শুরু করেন তিনি। ইতোমধ্যে মাল্টা বিক্রি করে ভাল লাভ পেয়েছেন। চাকরি জীবন শেষে এ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন তিনি।
বর্তমানে আবদুর রহিম সরদারের বাগানে শতাধিক গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে মাল্টা। আবদুর রহিম জানান, মাল্টা গাছ রোপণের দুই বছরের মাথায় ফল পাওয়া যায়। প্রতি বিঘা জমিতে ১শ'-১শ' ২০টি গাছ লাগানো যায়। ১ ফুট বাই ১ ফুট গর্ত করে প্রয়োজনীয় সার দিয়ে ১০ দিন ফেলে রেখে গাছ রোপণ করতে হয়। প্রতিটি চারা গাছ ১২০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৫ বছর বয়সী প্রতিটি গাছ থেকে বছরে গড়ে ৩শ'-৪শ'টি মাল্টা পাওয়া যায়। প্রতিকেজি মাল্টার বাজার মূল্য প্রায় ২শ' টাকা। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ফুল আসে। অক্টোবর-নভেম্বরে ফল সংগ্রহ করা হয়।
ইতিমধ্যে আবদুর রহিম সরদারের বাগান পরিদর্শন করেছেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, এমন উদ্যোগে আমি অনেক খুশি হয়েছি। তিনি বলেন, বরিশালে বর্তমানে ১৪৪টি বাগানে সারে ৫ হাজার মাল্টার চারা রোপণ করা হয়েছে। প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ থেকে মাল্টা বাংলাদেশে আনতে হয়েছে, কিন্তু দেশের মাল্টা চাষের ফলে বিদেশ থেকে মাল্টা আমদানির চাপ কমছে, ফলে অর্থনৈতিকভাবে অনেকটা স্বাবলম্বী হচ্ছে দেশ। এবং দেশের উৎপাদিত মাল্টা ফরমালিন মুক্ত তাজা ফল আমরা পাচ্ছি এতে আমাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সঠিক ও পরিকল্পিতভাবে মাল্টা বাগান গড়ে তুলতে পারলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব।
বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাম্মৎ মরিয়ম বলেন, 'আমি রহিম সরদারের বাগান দেখেছি, তাকে কৃষি অফিস থেকে সবধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। মাল্টা অর্থকরী ফসল। এটি সুস্বাদু ফল। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে। এটি চাষে এলাকার পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবে। তবে এ বাগান করতে হলে কৃষককে খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যাতে কোন রকমে ভাইরাস লাগতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভাইরাস লাগলে গাছের পাতা পোকায় নষ্ট করে দেয় এবং পাতা কুঁকড়ে-মুকরে যায়।'
ইত্তেফাক/জামান
