ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু অত:পর ১ লাখ টাকায় রফা-দফা

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৭, ২০:২৩
 
বাঘায় দু’জন ডাক্তারের দায়িত্ব একজন পালন করার কারণে আলো খাতুন নামে এক প্রসূতি রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় লোকজন ওই ক্লিনিকের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে গভীর রাতে ক্লিনিক পক্ষ ১ লাখ টাকায় বিষয়টি রফা-দফা করে নেয়। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্লিনিকে নানা অ-ব্যবস্থাপনা থাকার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।  
 
জানা গেছে,  বুধবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া কারিকর পাড়া গ্রামর গৃহবধূ আলো খাতুনকে (২০) সিজারিয়ান অপারেশন করানোর জন্য বাঘা উপজেলা সদরে অবস্থিত “সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকে’’ ভর্তি করা হয়।
 
এরপর বিকেলে রাজশাহী থেকে ডাক্তার আব্দুল্লা আল মামুন (সার্জন) ওই ক্লিনিকে যান এবং আলোর অপারেশন করার পর কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।  
 
অভিযোগ উঠেছে, ওই অপারেশন করার জন্য একজন অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার প্রয়োজন হয়। কিন্তু আব্দুল্লা আল মামুন দু’জন ডাক্তারের কাজ একাই করেছেন। আর এ কাজে বিঘ্ন ঘটায় অপারেশনের দুই ঘণ্টা পর আলোর মৃত্যু হয়। 
 
ডা. আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, আমি মাঝে-মধ্যে বাঘার ক্লিনিকগুলোয় অপারেশন করতে যাই। সেখানে অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার হিসেবে কাজ করেন আক্তার জাহান। তিনি ব্যক্তিগত কাজে ওইদিন উপস্থিত হতে না পারায় আমি একই দু’জনের দায়িত্ব পালন করেছি। তবে রোগী খারাপের দিকে যাওয়ার পর সেখানে কোন ডাক্তার না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
 
আলোর মা সাগরিকা জানান, ডাক্তার চলে যাওয়ার পর তার মেয়ে কোমরের ব্যথায় ছট-ফট শুরু করে। রাত সাড়ে ৭টার  সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন পর্যন্ত ক্লিনিকে কোন ডাক্তার-নার্স ছিল না। এরপর তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে ক্লিনিকের লোকজন একটা মাইক্রো ডেকে তড়িঘড়ি করে তার মেয়েকে রাজশাহীতে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। 
 
এসময় তার কান্না দেখে স্থানীয় লোকজন মাইক্রোটিকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিতে বলে। সবার কথায় আলোকে সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জহুরুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। যার সত্যতা স্বীকার করেছেন ডা. জহুরুল ইসলাম । 
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পর রাত ১২টার দিকে অনেক দেনদরবারের এক পর্যায়ে লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের স্থানীয় মেম্বর বিষয়টি ১ লাখ টাকায় রফা-দফা করে দেন।  
 
এদিকে খবর পেয়ে ওই রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা ঘটনাস্থলে যান এবং ক্লিনিকের সার্বিক অবস্থা দেখে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু মালিক পক্ষের একজনও সেখানে উপস্থিত না থাকায় তিনি পরদিন বৃহস্পতিবার পুনরায় সেখানে যান এবং নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম।  
 
নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা জানান, ওই ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক কোন ডাক্তার নেই। নেই ট্রেনিংপ্রাপ্ত কোন দক্ষ নার্স। ওটি কক্ষের অবস্থা একেবারে নাজুক। সব মিলে নানা অ-ব্যবস্থাপনায় জর্জরিত। এসব বিষয়গুলো লক্ষ্য করার পর ক্লিনিকের মালিক বাদশা এবং জিল্লুর রহমান অপরাধ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে উক্ত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য পাঁচদিন সময় বেঁধে দেয়া হয়। 
 
ইত্তেফাক/আরকেজি